ফেসবুক পোস্টের জন্য মহিলাকে কয়েক কোটি টাকার জরিমানা!

কথা বলে বিপদ টের পেলেই তা নিয়ে মিথ্যাচার করার উপায় থাকে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া এমনি এক লিখিত দলিল, যেখানে মন্তব্য করে মুছে দিলেও থেকে যায় কথা। স্ক্রিনশট নিয়ে বহু তুলকালাম কান্ড ইতোমধ্যে বহুই ঘটে গেছে। আবার সোশ্যাল মিডিয়ার ঝগড়া অন্তর্জাল ছাড়িয়ে বাস্তবেও রুপ নিয়েছে এমন ঘটনাও শোনা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার তিল পরিমাণ ঝগড়া বা বিবাদ তাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও হারহমেশা। এইজন্য যুতসই একটা পোস্ট বা মন্তব্যই যথেষ্ট যা অন্যকে আঘাত দিতে পারে। আঙুল পিছলে একটা মন্তব্যই বন্ধুকে বানিয়ে দিচ্ছে শত্রু। তেমনি এক ঘটনা ঘটলো আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনায়। জানা যায়, জ্যাকলিন হ্যামন্ড নামে এক মহিলা ফেসবুকে তার এক বান্ধবীর উদ্দেশে কিছু আপত্তিজনক কমেন্ট পোস্ট করেন, যার মধ্যে জ্যাকলিন তাঁর বান্ধবীর ছেলের মৃত্যু নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন।  এই আপ্তবাক্যের মাশুল এখন কড়ায় গণ্ডায় চোকাচ্ছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলের বাসিন্দা জ্যাকলিন ২০১৫ সালে এই আপত্তিজনক পোস্টটি করেছিলেন। এক সময়ে বান্ধবী মিস ডাভিনে ডায়ালের সঙ্গে জ্যাকলিন একটি রেডিও স্টেশনে কাজ করতেন। পরে, জ্যাকলিন সেই রেডিও স্টেশন ছেড়ে অন্য শহরে চাকরি নেন। ফেসবুকে জ্যাকলিনকে কিছু মামুলি প্রশ্ন করেছিলেন ডাভিনে। কিন্তু, প্রত্যুত্তরে জ্যাকলিন বলেন, ‘আমি মদ্যপান করি নি যে আমার ছেলেকে খুন করব’। এমন মন্তব্যে প্রবলই মর্মাহত হন ডাভিনে। কারণ, ১৯৭৬ সালে তাঁর ছেলে এক বন্ধুর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল।

মর্মাহত ডাভিনে এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে মামলা ঠোকেন। ডাভিনের অভিযোগ ছিল, সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে প্রকাশ্যে যেভাবে তাঁকে ছেলের মৃত্যু নিয়ে আপত্তিজনক কথা শোনানো হয়েছে, তাতে মানসিকভাবে তিনি আরও ভেঙে পড়েছেন। আবেগে প্রবল আঘাত পেয়েছেন। দু’জনের পুরনো সহকর্মীদের দাবি, ডাভিনে একটা রেডিও স্টেশনের ম্যানেজার ছিলেন। আর জ্যাকলিন ছিলেন সাধারণ কর্মী। দু’জনের মধ্যে খুব ভাল বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু, আচমকাই দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। বিশেষ করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী জ্যাকলিন সম্পর্ককে আরও বিষিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

সমস্ত কিছু শোনার পর নর্থ ক্যারোলিনার আদালত জ্যাকলিনকে দোষী সাব্যস্ত করে অর্থদণ্ড দিয়েছে। এরজন্য ৩.২ কোটি টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন আদালত জানায়, অন্যের সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করার আগে অধিকাংশ মানুষকে লিখিত শব্দচয়নে সাবধান হওয়া উচিত। এমন কোনও ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয় যাতে কেউ আইনি ঝামেলায় জড়াতে পারেন। বিশেষ করে, জ্যাকলিনের মতো ভুল যাতে সাধারণ মানুষ না করেন তা সকলেরই ভেবে দেখা উচিত।

 

Spread the love
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন