বব ডিলানের কবিতা(১ম কিস্তি) || অনুবাদঃ মাহমুদ মিটুল

উডির জন্য গান

এখানে এসেছি আমি বাড়িঘর ছেড়ে
রাস্তা ধরে হাঁটছি হাজার ক্রোশ দূরে
রাজা-মন্ত্রী তোমাদের কৃষক-মজুর
দেখি কত মানুষ-জিনিসপত্র ঘুরে

হে উডি গুথরি, তোমার জন্য এ-গান
হাস্যকর পৃথিবী উদ্বাস্তু সর্বময়
রোগাক্রান্ত-ক্ষুধার্ত দুর্যোগে ক্লান্ত
মনে হচ্ছে মৃত, নেই জীবনের জয়

হে উডি গুথরি, ভালো করে তুমি জানো
আমার যত কথা, গাওয়া যত গান-
হয়নি গাওয়া তবু যতটা পর্যাপ্ত
এখনো নয় বহুলোক তোমার সমান

সিসকো-সনি-লিডবেলি আছে এখানে
ভালো কিছু মানুষ পাবে তোমার পাশে
হাতে হাত রেখে আছে হৃদয়ে বন্ধন
কিন্তু তা ধুলোময়, উড়ে যায় বাতাসে

আজ আমি আছি কিন্তু যাবো চলে কাল
অন্য কোনো পথে যাবো অন্য কোনো ক্ষণ
শেষ কথাটি এই বলতে আমি চাই
চলছি আমি অন্তহীন কঠিন ভ্রমণ

 

বাতাসে বাতাসে ভাসছে

কতখানি পথ গেলে হেঁটে একজন
তোমরা তাকে বলবে মানুষ?
কয়টি সাগর দিলে পাড়ি শ্বেত পায়রা
বালুকা বেলায় ঘুমাবে বেহুশ?
কতকাল ধরে উড়ালে কামান-শেল
নিষিদ্ধ হবে এই ভ্রান্ত ফানুস?
বন্ধু,
উত্তর ভাসছে বাতাসে বাতাসে
বাতাসে বাতাসে ভাসছে উত্তর

কতটা বছর টিকে উঁচু ওই পর্বত
অতল-গভীর সাগরে হারাবে?
কতগুলো বছরের সংগ্রামে জনতা
শোষণ-পীড়ন থেকে মুক্তি পাবে?
কতকাল রাখবে ও-মাথাটা ঘুরিয়ে
কিছু না-দেখার ভান করে যাবে?
বন্ধু,
উত্তর ভাসছে বাতাসে বাতাসে
বাতাসে বাতাসে ভাসছে উত্তর

কতক্ষণ থাকলে তাকিয়ে একজন
উদার আকাশটা দেখতে পাবে?
থাকলে কতটা ওই শ্রবণের ধার
বঞ্চিতের কান্না শুনতে পাবে?
কতগুলো হত্যাকাÐ হলে জনপদে
মানুষ মরছে তারা তা বুঝবে?
বন্ধু,
উত্তর ভাসছে বাতাসে বাতাসে
বাতাসে বাতাসে বাসছে উত্তর

 

 

সময় এক নিয়মিত পরিবর্তন

যেখানেই থাকো এসে জনতার কাতারে দাঁড়াও
তোমাকে ঘিরেই বইছে ¯্রােত নিজেকে ছেড়ে দাও
মিশে যাবে দ্রæত আপাদমস্তক তুমি মেনে নাও
সময় তোমার যদি মূল্যবান
তবে তুমি সাঁতার কাটতে থাকো
কিংবা পাথরের মতো যাও ডুবে
কারণ সময়, সে তো এক নিয়মিত পরিবর্তন।

জাগো লেখক, কলমে তোমার স্বপ্নের আলপনা
খোলে রাখো চোখ, গেলে সময় ফিরে তো আসবে না
ঘুরছে দেখো কালের চাকা আগেই কিছু বলো না
হয়নি বলা খুলে কখনো
দিয়েছে কে এইসব নাম
আজ অভাগা কালকে জয়ী
কারণ সময়, সে তো এক নিয়মিত পরিবর্তন।

নেমে আসো আমলা সাংসদ কথা শোনো জনতার
বন্ধ করে রাষ্ট্র-দুয়ার থেকো না মুখ লুকিয়ে আর
তারাই হবে বাধা যারা আজ বঞ্চনার শিকার
ভেঙে ফেলবে বন্ধ জানালা
বাইরে বাড়ন্ত বিগ্রহ এসে
গুড়িয়ে দেবে দুর্গ দেয়াল
কারণ সময়, সে তো এক নিয়মিত পরিবর্তন।

বাবা-মায়েরা আসো নেমে পথে, দেখো সারা দুনিয়া
করো না সমালোচনা শুধু তোমাদের জ্ঞান দিয়া
সন্তানেরা বেড়িয়ে পড়েছে বন্ধন সব খুলিয়া
পুরোনো সবই যাচ্ছে মুছে
যদি মিলাতে না পারো তাল
তবে পথ থেকে সরে যাও
কারণ সময়, সে তো এক নিয়মিত পরিবর্তন।

জীর্ণতা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হয়েছে এ সীমানা টানা
আজ মন্থর কাল তা কিন্তু তেমনটি থাকবে না
বিদ্যমান সবকিছুই অতীতে গড়বে আস্তানা
খুব দ্রুতই যাচ্ছে বদলে
চলমান নিয়ম কানুন
আজ যা ঠিক কাল তা ভুল
কারণ সময়, সে তো এক নিয়মিত পরিবর্তন।

 

 

হারলেমের পথে

বাইদানি হে, হারলেমের বাহুমূল
পারে না সইতে শোনো তোমার উত্তাপ
আগুনের এই বশ না মানা বিস্তার
পায়ে পায়ে জ্বলে তোমার সব পথঘাট
গৃহহারা আমিও, আমাকে সঙ্গে নাও
বন্দি করো তোমার ও-ঝুড়ির ভিতর
হাতের তালুতে, মেয়ে, দেখো ভাগ্যরেখা
জানাও আমাকে দেখে কী গতি আমার

বাইনাদি মেয়ে, তুমি করেছো আটক
তলিয়ে যাচ্ছি ভীষণ গভীরে অতল
মুক্তার চোখ জোড়া তোমার ঝলমল
হীরকের দাঁতগুলো হাসিতে প্রজ্জ্বল
পিচকালো রাত দেখো বিষণ্ন এ মুখ
দয়া করে ঘুচাও এসে যতো যন্ত্রণা
ডুবে মরি, মেয়ে, এসে বাঁচাও বাঁচাও
তুমিই এখন আমার চ‚ড়ান্ত সীমানা

তোমাকে দেখার আগে কতোকাল ধরে
ঘুরেছি পথের বাঁকে একাকি অবলা
রাহুর চক্রে ঘুরে কতো প্রান্তর বন
জানিনি, বুঝিনি আমি কেনো এই চলা
ঘুচিয়ে দিয়েছো তুমি হৃদয়-উদ্বেগ
হাসি মুখে করেছি সব তোমাকে অর্পণ
রাখবে না আমাকে ও-আঁচলে তোমার?
তাহলে পেতাম আমি যথার্থ জীবন

 

 

সীমাহীন ভালোবাসা

ভালোবাসা আমার নিরব এক ভাষা
নাই তার কোনোই বর্ণীল আয়োজন
কাটতে হয় না তাকে প্রত্যহ কসম
সত্য তবু সে বরফ-আগুন যেমন
হাতে নিয়ে গোলাপ দৌড়ায় মানুষেরা
নিরন্তর করে যায় কতো অঙ্গীকার
ফুলের মতো হাসে আমার ভালোবাসা
পারে না ভ্যালেন্টাইন কিনতে হৃদয় তার

স্টেশন-বাজারে আর চায়ের দোকানে
পরিস্থিতি নিয়ে লোক করে আলোচনা
বই পড়ে উদ্ধৃতি দেয় কাব্য পুরাণ
এভাবেই খুঁজে নেয় যে যার সীমানা
কেউ বলছে কথা আসন্ন আগামীর
কিন্তু আমার প্রেমের কথারা কোমল
জানে সে ভালো করে জাগতিক হিসেব
আসলে তো কেউই নয় ব্যর্থ-সফল

আলখাল্লার আড়ালে হাসছে ছুরিকা
বধূরা ঘরে ঘরে জ্বালায় মোমবাতি
উপটৌকন লোভে যতো বাজির ঘোড়ারা
অন্তহীন ছুটে করে রেসে মাতামাতি
একটায় গেঁথে আর একটার বাহু
গড়ে তোলে ভাস্কার্য ক্ষুদ্র ম্যাচের কাঠি
বিব্রত নয়, হাসে আমার ভালোবাসা
জানে সে যুক্তিতর্ক এখানে সব মাটি

মাঝরাতে শহরের কাঁপে ব্রিজগুলো
দিগি¦দিক ছোটে হাতুরে সব ডাক্তার
রূপচর্চায় ব্যস্ত ও-ধনির দুলালিরা
বাসনা তাদের শুধু দামি উপহার
হাতুরির মতো করে বাতাস গর্জায়
বৃষ্টি-শীতে ডুবে আছে রাত চারিদিক
নিশ্চুপ বসে থেকে দক্ষিণা জানালায়
ভালোবাসা আমার ডানা ভাঙা শালিক

 

গড়াগড়ি খাওয়া এক পাথর

একদা ছিলে তুমি পোশাকে পরিপাটি
অহংকারে শুধু দুলিয়েছো পাছাখানা
বহুজন করেছে কতো সতর্ক তোমায়
শোনোনি কখনোই কারো কোনো মানা
ভেবেছো সবাই বুঝি করছে দুষ্টুমি
হেসেছো লুকিয়ে তখন কেবলি তুমি
সবাই যে যার দেখো আছে ঠিকঠাক
হারিয়েছে শুধুমাত্র কথারা তোমার
হারিয়ে গেছে সেই অহংকার সকল
চিন্তায় এখন আহার পরের বেলার…

কেমন হবে
কেমন হবে, বলো?
নাই কোনো বাড়ি-ঘর
নাম-পরিচয়হীন-
(জীবন যেনো এক)
গড়াগড়ি খাওয়া পাথর?

জমকালো কলেজে শিখেছো পড়াশুনা
জেনেছো আনন্দের কতো না উদযাপন
শেখায়নি কখনো কেউ পথের জীবন,
সেখানেই এখন তোমার দিনযাপন।
ভবঘুরে হবে না করবে না আপস
বুঝেছো হবে না লাভ কোনো অজুহাতে
যতোই তাকিয়ে থাকো চোখ রেখে চোখে
করুণাহীন নির্মম, শূন্যতা মাখা তাতে।

কেমন হবে
কেমন হবে, বলো?
নাই কোনো বাড়ি-ঘর
নাম-পরিচয়হীন-
(জীবন যেনো এক)
গড়াগড়ি খাওয়া পাথর?

মজেছিলে পুরোপুরি বাজি-ভাঁড়ামোতে
দেখোনি চারপাশের সতর্ক ইশারা
বোঝোনি বাজিকরের ফন্দি মতলব
উপর দিয়ে গেছে সব ভালো কথারা
কল্প ঘোড়ায় নিজের খেয়ালে তোমার
ঘুরেছো সম্মোহনে চেপে যাদু-শহর
কাটলে ঘোর শেষে বুঝেছো ফাঁকিঝুকি
দেখিয়ে ভেল্কি সব নিয়েছে বাজিকর।

কেমন হবে
কেমন হবে, বলো?
নাই কোনো বাড়ি-ঘর
নাম-পরিচয়হীন-
(জীবন যেনো এক)
গড়াগড়ি খাওয়া পাথর?

সুদর্শন পুরুষেরা দিয়েছে উপহার
ভেবেছিলে গেছো পৌঁছে পাহাড় চ‚ড়ায়
সেখানে ছিলে তুমি সুন্দরী রাজকন্যা
নিয়েছো অলংকার গড়া দামী হীরায়
নিয়েছো কতো কিছু সামনে যা পেয়েছো
পারছো না এখন করতে প্রত্যাখ্যান
এখন তুমি শূন্য কিছু নাই হারাবার
নাই কিছু গুপ্ত সব হয়েছে অবসান

কেমন হবে
কেমন হবে, বলো?
নাই কোনো বাড়ি-ঘর
নাম-পরিচয়হীন-
(জীবন যেনো এক)
গড়াগড়ি খাওয়া পাথর?

তোমাকে চাই

ঠকবাজ ঠিকাদার ফেলে দীর্ঘশ্বাস
কেঁদে চলে ঘড়ঘড় ওই যাতাকল
স্যাক্সোফোনটা বলে ভুলতে তোমায়
শুনছি বেল-ভেঁপু সারাদিন অনর্গল
চোখে-মুখে আমার দেখো বিষণ্নতা
সর্বদা তবু আমি তোমাতে অবিচল

তোমাকে চাই তোমাকে চাই
ভীষণভাবে তোমাকে চাই
প্রিয়তমা, আমি তোমাকে চাই

লাফাচ্ছে মাতাল রাজনীতিকগণ
অথচ কাঁদে মাতা রাস্তায় অসহায়
আড়মোড়া ভেঙে তবু জেগেছে তো ত্রাতা
বসে আছে সবাই তোমার অপেক্ষায়
আমিও প্রতীক্ষায় বলবে এসে কেউ
খুলতে হবে দুয়ার হয়েছে সময়

তোমাকে চাই তোমাকে চাই
ভীষণভাবে তোমাকে চাই
প্রিয়তমা, আমি তোমাকে চাই

চলে গেছে পরপারে পিতারা সকল
পায়নি যারা স্বাদ শুদ্ধ ভালোবাসার
কিন্তু, মেয়েরা আমাকে করছে বিদ্রুপ
করি না পরোয়া বলে সে ভালোবাসার…

ঘুরে ঘুরে বলি সব প্রতিবেশীদের
ফিরে ফিরে আসি আমার রানীর কাছে
দেখলে যাকে যায় চলে লজ্জা ভয়েরা
ভালোবাসার চাবি তার আঁচলে আছে
দৃষ্টিজুড়ে তার আয়নার নিপুনতা
পলকেই মনের ভিতর দেখতে পায়
বিষয়গুলো হোক না যেমন-তেমন
জানে সে ঠিকই এ-মন কী গান গায়

তোমাকে চাই তোমাকে চাই
ভীষণভাবে তোমাকে চাই
প্রিয়তমা, আমি তোমাকে চাই

চীনা স্যুটে বাচ্চাটা করছে নাচানাচি
খেলনা নিয়ে কথা বলে আমার সাথে
যথেষ্ট কোমল নই আমি তার সাথে?
মিথ্যে শহরে আজো পারিনি বদলাতে-
নিয়েছে টেনে কেউ তোমাকে ভিন্ন কোর্টে
সময় যার, শিরোপা যায় তার হাতে

তবুও…
তোমাকে চাই তোমাকে চাই
ভীষণভাবে তোমাকে চাই
প্রিয়তমা, আমি তোমাকে চাই

 

আমি নিঃসঙ্গ ভবঘুরে এক

আমি নিঃসঙ্গ ভবঘুরে এক
নাই কোনো বন্ধু-পরিবার
যেখানে করে শুরু লোকজন
সেখানেই সমাপ্তি আমার।
দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা বাকি
কিইবা বলো আমি করিনি
ঘুষ প্রতারণা জালিয়াতি
কোনোটাই রাখতে পারিনি।

ছিলো একদা ধন আমারো
কমতি ছিলো না কোনোটার
মুখে সোনায় বাঁধানো দাঁত
কাঁধে ছিলো উলের মাফলার।
ছিলো না কেবল আস্থা-বিশ্বাস
কারো প্রতিই বন্ধু-পরিবার
করে দোষারোপ একে অন্য
হয়েছে সে সময়টা পার।

খুব দ্রুত আমি চলে যাবো
পিছনে ফেলে বন্ধু-স্বজন
বলার থাকলে কিছু বলো
পাবে না যাবো চলে যখন।
স্বার্থপর থেকে যাবো দূরে
জালিমেরা নাই তো যেখানে
তোমরা থাকো এসব নিয়ে
হয়তো হবে দেখা বিজনে।

 

 

আজ রাতে আমি তোমার

বন্ধ করে দরজা বন্ধ করো চোখের পাতা
ধীরে ধীরে ঝেড়ে ফোলো মনের বিষণ্নতা-
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত

নিভিয়ে ঘরের বাতি, টেনে দাও অন্ধকার
ভয় নাই প্রিয়া, পাহারায় জোনাকী তোমার-
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত

দুর্ভোগের সেদিনগুলো এখানে আর নাই
বিষাদের অতীত চলো আমরা ভুলে যাই
আকাশে ভাসছে চাঁদ দেখো অপূর্ব আলোক
যোগ দেই আমরাও চলো ভুলে দুঃখ শোক

খুলে রাখো তোমার জুতা প্রিয়া, ভয় পেও না
গুছিয়ে রাখো ও-ঘরদোর সংকোচ করো না-
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত
তুমি আমার
আমি তোমার
আমি তোমার
তুমি আমার
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত

দুর্ভোগের সেদিনগুলো এখানে আর নাই
বিষাদের অতীত চলো আমরা ভুলে যাই
আকাশে ভাসছে চাঁদ দেখো অপূর্ব আলোক
যোগ দেই আমরাও চলো ভুলে দুঃখ শোক

খুলে রাখো তোমার জুতা প্রিয়া, ভয় পেও না
গুছিয়ে রাখো ও-ঘরদোর সংকোচ করো না-
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত
তুমি আমার
আমি তোমার
আমি তোমার
তুমি আমার
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত
একান্ত আমাদের আজ এই চাঁদনী রাত

 

তোমাতে বিলীন

একান্তই নির্জনে আমরা
দুজনে কেবল দুজনার-
বলো প্রিয়া, নিবিড় এ ক্ষণে
যা কিছু গোপনীয় তোমার।
জড়িয়ে বাহুতে পরস্পর
কাটাবো এ-রাত নিদ্রাহীন
ভুলে গিয়ে সমস্ত পৃথিবী
আমি শুধু তোমাতে বিলীন।

একান্তই নির্জনে আমরা
বিকেলের পড়ন্ত বেলায়
দৃষ্টিজুড়ে তোমারই ছবি
ধীরে হারায় সূর্য সন্ধ্যায়।
আলো গিয়ে আসে অন্ধকার
আয়ু হারায় ব্যতিব্যস্ত দিন
যাই ঘটুক, জেনেছি প্রিয়া,
আমি শুধু তোমাতে বিলীন।

বলে লোকে রাতই সঠিক
ভালোবাসার জন্য সময়
দিনে ছোটাছুটি যদিও সত্য
তবুও তুমি আমার সর্বময়।
নামুক এখানে অন্ধকার
জ্বলে তোমার রূপ-জোনাক
লুটিয়ে থেকে চাঁদনী বক্ষে
নিশ্চিন্তে জীবন কেটে যাক।

প্রভুকে অনেক ধন্যবাদ
গড়েছেন তোমাকে নিপুন-
যজ্ঞভিড়ে বা একান্তে তাই
আমি শুধু তোমাতে বিলীন।

 

 

অনুবাদকের পরিচিতি

মাহমুদ মিটুল
জন্ম: ১৪ নভেম্বর ১৯৮৬ খ্রি.
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
প্রকাশিত গ্রন্থ:
মুমূর্ষা ও গোঙানি (কবিতা) 
বিস্ময় মুছে দিও না (কবিতা) 
সম্পাদনা:
বিজন অশ্রুবিন্দু  (ছোটোকাগজ)

Spread the love
  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    18
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন