হস্তমৈথুনের সুফল-কুফল

হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশন কি? ব্যাপারটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। উঠতি বয়সের ছেলেদের মাঝে এর প্রবনতা বেশি দেখা গেলেও পুরুষদের মত নারীদের কিংবা মহিলাদের এমনকি কম বয়সী মেয়েদের মাঝেও হস্তমৈথুন প্রবনতা থাকে। হস্তমৈথুন প্রসঙ্গে নানান রকমের কু-সংস্কার ও ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন হস্তমৈথুন  কোনো  ক্ষতির কিংবা কুফলের।  মূল বিষয়টি হচ্ছে, হস্তমৈথুন তখনই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো যখন তা  হবে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায়। হস্তমৈথুন কোনও রোগ বা অপরাধপ্রবণতা নয়, একদম স্বাভাবিক জৈবিক প্রবৃত্তি। নারী-পুরুষ উভয়েই হস্তমৈথুন করে।

আসুন দেখে নেওয়া যাক হস্তমৈথুন সম্পর্কিত এমন কয়েকটি বিষয়, যা হয়তো আপনি জানেন না।

 

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সের পর নিয়মিত হস্তমৈথুন করলে প্রস্টেট ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে।

অল্প বয়সে হস্তমৈথুন করলে স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী মাত্রই জানে, স্বপ্নদোষ একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি।

নিয়মিত হস্তমৈথুন করলে ঘুম ভাল হয়। হস্তমৈথুনে শরীরে শক্তিক্ষয় হয়, ফলে বীর্যপাতের পরই ক্লান্ত লাগে। চোখ যেন জুড়ে আসে। চিকিৎসকরা তাই বলেন, হস্তমৈথুন অনিদ্রার ভাল ওষুধ।

হস্তমৈথুন করলে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ে। হস্তমৈথুনের সময় শরীরে ডিএইচইএ নামে একটি হরমোনের ক্ষরণ হয়। এই হরমোনটি রোগ-জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শরীরকে গড়ে তোলে। পাশাপাশি, হস্তমৈথুনের সময় টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরের হাড় ও মাংসপেশি সবল হয়।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত হস্তমৈথুনে স্পার্ম কাউন্ট অনেকটাই বেড়ে যায়। নতুন স্পার্ম পুরনোর জায়গায় রিপ্লেস হলে ফার্টিলিটিও বাড়ে।

হস্তমৈথুন স্ট্রেস কমানোর সেরা উপায়। এ সময় এমন কিছু হরমোন শরীর থেকে বের হয় যা স্ট্রেস মুক্ত করে।

হস্তমৈথুনের সময় পেলভিক জোনে বেশি রক্ত চলাচল করতে শুরু করে। সেখানকার পেশিগুলি সঞ্চালিত হয়। এটা শরীরের পক্ষে ভাল।

যদি মনে হয়, অবসাদের কারণে শরীর ম্যাজম্যাজ করছে বা মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে আছে, তা হলে অবশ্যই হস্তমৈথুন করুন। ফুরফুরে লাগবে। এর কারণ এন্ডোরফিন্স নামে একটি হরমোনের ক্ষরণ।

প্ল্যানড পেরেন্টহুড জানাচ্ছে, মেয়েরা নিয়মিত হস্তমৈথুন করলে মাসিকের সময় যন্ত্রণার অনুভূতি তুলনামূলক কম হয়।

আপনার বহুগামিতার অভ্যেস থাকলে সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিসিজের ভয় থাকে। কিন্তু হস্তমৈথুনে সেই আশঙ্কা নেই। হস্তমৈথুনের ফলে অন্যান্য যৌন সমস্যাও কমে যায়।

 

বেশি হস্তমৈথুন করলে ধ্বজভঙ্গ হয় না কিংবা শুক্রাণুর গুণমান হ্রাস পায় না।

 

হস্তমৈথুনের সময়ে পেনিস শক্ত বা ধারালো বস্তুর সঙ্গে ঘষা উচিত নয়। এর ফলে রক্তপাত যেমন হতে পারে, তেমনই পেনিসের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধ্বজভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

ন্যাশনাল সার্ভে অফ সেক্সুয়াল হেলফ অ্যান্ড বিহেভিয়ার বলছে, ১৭ বছর বয়সে পা দেওয়ার আগেই ৮০ শতাংশ ছেলে হস্তমৈথুনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ফেলে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ। ১৮ বছর পেরিয়ে এই হার হয় পুরুষদের ক্ষেত্রে ৯২ শতাংশ ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ।

 

বিভিন্ন সমীক্ষার দাবি, ৭০ শতাংশ পুরুষ আছে, যারা বিয়ের পরও নিয়মিত হস্তমৈথুন করে।

 

৪৬ শতাংশ মহিলা হস্তমৈথুন শুরুর তিন মিনিটে অর্গাজমে পৌঁছে যায়।

 

কিনসি ইন্সটিটিউটের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৩৮ শতাংশ মানুষ হস্তমৈথুনের আগে পর্নোগ্রাফি দেখে।

 

২৮ মে আন্তর্জাতিক হস্তমৈথুন দিবস পালিত হয়। আগে ৭ মে পালিত হত। আর মে মাস হল আন্তর্জাতিক হস্তমৈথুন মাস!

 

৯০ শতাংশ পুরুষ হস্তমৈথুনের সময় নিজের গার্লফ্রেন্ড বা বউয়ের কথা না ভেবে অন্য মেয়ের কথা চিন্তা করে। সেই মেয়ে রাস্তার কোনও অপরিচিত মেয়ে যেমন হতে পারে, তেমনই পাড়ার বউদি, বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড হতে পারে।

 

বিছানায় আপনার পারফরমেন্স যত ভাল হস্তমৈথুনে আপনি ততই এক্সপার্ট। দেখা গিয়েছে যারা বেশি হস্তমৈথুন করেন তারা সাধারণত ভাল সেক্স পার্টনার।

 

পরিশেষে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, হস্তমৈথুন করুন। নিয়মিত করুন। এতে শরীরের কোনও ক্ষতি নেই। শুধু অবিবাহিত নয়, বিবাহিতরাও হস্তমৈথুন করতে পারে।

Spread the love
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    55
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন