অমৃতসর কাণ্ডে সিধুর স্ত্রী টার্গেট

অমৃতসরে দশেরা বিপর্যয়ের ঘটনায় বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং পঞ্জাবের মন্ত্রী নভজ্যোত সিংহ সিধুর স্ত্রী। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরে আহতদের সাহায্য করার বদলে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান সিধু-পত্নী।

Image result for অমৃতসর কাণ্ড

অমৃতসরে দশেরার যে অনুষ্ঠান চলাকলীন ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য মানুষের, সেখানেই মুখ্য অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন নভজ্যোত কউর সিধু। তাঁর অবশ্য দাবি, দুর্ঘটনার পরে যাতে আহতরা দ্রুত চিকিৎসা পান, তিনি সেটাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।

নভজ্যোত কউর সিধু আরও দাবি করেন, রাবণের মূর্তি পোড়ানোর পরেই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন। ঠিক তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।

সিধু-পত্নীর এই দাবি অবশ্য মানতে নারাজ বিরোধীরা। শিরোমণি অকালি দলের নেতা বিক্রম মাজিথিয়ার দাবি, মৃতদের পরিবার এবং অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত প্রত্যেকেই সিধুর স্ত্রী এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

অমৃতসরের এই ঘটনা নিয়ে যথারীতি রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। পঞ্জাবের বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, কংগ্রেসের উদ্যোগেই রেল লাইনের পাশে দশেরার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিংহ বাদল দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন।

এদিকে, ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য অনুরোধ করেছেন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া নভজ্যোত কউর সিধু। নভজ্যোত সিংহ সিধু নিজেও আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাবণ দহন অনুষ্ঠান চলছিল অমৃতসরের চৌরা বাজারের ফটক এলাকায়। সেখানে প্রাথমিক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই রাবণের কুশপুতুলে আগুন লাগানো হয়। আগুনের ছিটে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের গায়ে এসে পড়তে থাকলে তারা বাঁচতে ক্রমশ পিছন দিকে সরতে শুরু করেন। আর এই পিছন দিকে ছিল রেললাইন। যেখান দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে সব সময় রেল চলাচল করে। অনেকেই রাবণ দহনের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরে রাখার জন্য তখন মোবাইলে ছবি তুলছিলেন। কেউ আবার মোবাইলে লাইভ করছিলেন। তাদের খেয়ালও ছিল না যে তারা সরতে সরতে রেল লাইনের উপরে চলে এসেছেন। ঠিক সেই সময় অর্থাৎ ভর সন্ধ্যায় এক দিক থেকে দুরন্ত গতিতে অমৃতসর মেল আসছিল অন্যদিকে আরেকটি ডিএমইউ কোচ। দুটি ট্রেনে বারবার হর্ন দিলেও প্রায় 700-800 মানুষের চেঁচামেচি এবং রাবণ দহনের আওয়াজে কোনও হর্ন কেউ শুনতে পাননি। দুই ট্রেনের মাঝে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে যান দাঁড়িয়ে থাকা লোকেরা। অনেকেই ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন, কেউ কেউ আবার ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে যান। মুহূর্তে উৎসবের জায়গা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। এই মৃত্যুর ঘটনায় আজ শনিবার শোক পালন করা হবে পাঞ্জাবের রাজ্য জুড়ে। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বলেছে, রেলকর্তৃপক্ষ ঘটনার জন্য দায়ি নয়।

সূত্রঃএবেলা

Spread the love
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন