ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশের চাকরি পেতে ‘কুমারীত্বে’র পরীক্ষা

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ বাহিনীতে নারী সদস্য নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশে চাকরি পেতে হলে নারীদের কুমারী হতে হবে।শুধু কুমারী হলেই চলবে না, হতে হবে সুন্দরীও। পুলিশে যেসব নারী যোগ দিতে চান তাঁদের ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ নামের একটি আদিম ও অপমানজনক পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হবে ওই নারী আসলেই কুমারী কি না।

Image result for ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ ‘কুমারীত্বের পরীক্ষা! এবিসি নিউজ

দেশটির পুলিশ বাহিনীতে নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন শর্ত দেয়ায় নড়েচড়ে বসেছেন বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া হারসোনো জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ বাহিনী মনে করছে যৌনভাবে সক্ষম কোনো নারীকে নিয়োগ দেয়া সম্ভব না। তাদের এমন মন্তব্য এবং শর্ত নারীদের ছোট করে, যা নারী স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বাধা।

জাকিয়া নামে ইন্দোনেশিয়ার এক নারী (পরিচয় গোপন রাখার জন্য তাঁর শেষ নামটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি) হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, তিনি এ বছরের শুরুতে পুলিশ অফিসার হওয়ার জন্য ওই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। জাকিয়ার দাবি, তার কুমারীত্বের পরীক্ষা কোনো চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত হয়নি। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা… অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। আমি কাঁদছিলাম … প্রতিটি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আমি আর বাঁচতে চাই না।’

তবে দেশটির নারী পুলিশরা বরাবরই এই অলিখিত আইনের সমর্থন করে আসছেন।

২৭ বছর বয়সী আনিসা পুলিশ বাহিনীতে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে এ পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া উচিত। পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি। এর ফলে আমরা অন্যদের (মানুষ) সুরক্ষা দিতে সক্ষম।’

আন্দ্রে হারসোনও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে নারী কর্মী নিয়োগের এই ব্যবস্থাটি ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ পরীক্ষা যাঁদের দিয়ে হয় তাঁদের ৭০ শতাংশ চিকিৎসকই পুরুষ।

উল্লেখ্য, এর আগে ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে বিশ্বজুড়ে। অনেকেই এই পরীক্ষাকে অপমানজনক ও অবৈজ্ঞানিক বলে বর্ণনা করেছেন।

Spread the love
  • 62
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    62
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন