খাসোগজি হত্যা:যে কারণে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিলেন খাসোগজির প্রেমিকা

গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি আরবের কনস্যুলেটে জামাল খাসোগজিকে হত্যা করা হয়। প্রথম থেকেই রিয়াদ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তুরস্কের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। খাসোগজির হত্যাকান্ডকে ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান  নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজকে। ট্রাম্প নিহত খাসোগির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে তৎপর নন বলে অভিযোগ তুলে এ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন হাতিস চেঙ্গিজ।

Image result for হাতিস চেঙ্গিজ

তুরস্কের টেলিভিশনে তিনি বলেছেন, আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।

তিন সপ্তাহ আগে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নিহত হন খাসোগি। এর পর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান সৌদি রাজপরিবারের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে রিয়াদ এবং এটি ‘দুর্বৃত্ত এজেন্টদে’ কাজ বলে দোষারোপ করে।

চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় এক নিবন্ধে হাতিস চেঙ্গিজ বলেন, যদি ট্রাম্প ‘ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের অভ্যন্তরে সে দিন আসলে কি ঘটেছে তা উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় প্রকৃতই অবদান রাখেন, তা হলে তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার বিষয়ে আমি বিবেচনা করব।’

ট্রাম্প বলেছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’, কিন্তু দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি সেখানেও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন এটা ‘সম্ভব’ যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতেন না।

সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো নেতা যুবরাজ সালমানের একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন খাসোগি।

গত ২ অক্টোবর খাসোগি তার বিবাহবিচ্ছেদের দলিলপত্র সংগ্রহ করতে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর আর বের হননি।

সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়, সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ জনের একটি দল তাকে কনস্যুলেটের ভেতরেই হত্যা করে এবং তার লাশ টুকরো টুকরো করে।

সৌদি আরব বলছে, কিছু এজেন্ট তাদের ক্ষমতার সীমার বাইরে গিয়ে এ কাজ করেছে।

এ হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের অধিকাংশ পশ্চিমা মিত্ররাই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এবং এর পূর্ণ ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

কিন্তু প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যাপারে মত-ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।

যেখানে জার্মানি উপসাগরীয় দেশগুলোয় অস্ত্র রফতানি স্থগিত রেখেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো বলেছেন, আমরা অবশ্যই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দেব তা বলা হবে জনগণের আবেগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা নেয়া।

শুক্রবার তিনি বলেন, খাসোগির সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির কোনো সম্পর্ক নেই। সব কিছু মিলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

এ হত্যার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব পাস হয়েছে বৃহস্পতিবার।

যদিও রাশিয়া বলেছে, সৌদি রাজ পরিবারকে বিশ্বাস করা উচিত এবং ‘তাদের বিশ্বাস না করার মত কোন কারণ কারো কাছে নেই’- এমনটা বলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ।

খাসোগির বান্ধবী হাতিস চেঙ্গিজ শুক্রবার এক টেলিভিশন আবেগময় সাক্ষাৎকারে তার প্রেমিকের অন্তর্ধানের ঘটনার দিনের স্মরণ করেন।

সেখানে তিনি বলেন, যদি ঘুণাক্ষরেও টের পেতেন যে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তাকে হত্যার এমন ষড়যন্ত্র করবে তা হলে তিনি খাসোগিকে কনসুলেটের ভেতরে ঢুকতে দিতেন না।

তিনি বলেন, ‘এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ের-সবাইকে যেন বিচার করা করা এবং শাস্তি হয়-এটাই আমার দাবি।’

তিনি জানান কোনো সৌদি কর্মকর্তার তরফ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তবে খাসোগির মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তার সৌদি আরবে যাওয়া অনিশ্চিত।

সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউটর এখন বলছেন, খাসোগজি হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এ হত্যার নির্দেশ-দাতা কে তা স্বীকার করে নিতে এবং মরদেহ কোথায় তা জানাতে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এ সাংবাদিকের ছেলে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বৃহস্পতিবার। তার বাবা সৌদি নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হওয়ায় ছেলে সৌদি-মার্কিন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে সম্প্রতি এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

খবর-বিবিসি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মন্তব্য লিখুন