বিলাল হোসেনঃ দ্য ম্যান উইথ এ ক্যামেরা।। সিদ্ধার্থ দত্ত

 

আধুনিক ফিল্মের ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ফিল্ম হলো— ম্যান উইথ এ ক্যামেরা।১৯২৯ সালে ৎজিগা ভেরতভ( Dziga Vertov) নামে তৎকালীন এক রাশিয়ান পরিচালক নির্মাণ করেন এবং ছবিটি সম্পাদনা করেন তার স্ত্রী এলিজাভেথা স্বিলোভা( Elizaveta Svilova।এটা কিন্তু নির্বাক ছবি ছিল কিন্তু ফুল লেন্থ ছবি। এই ছবিটার কথা কেন উল্লেখ করলাম জানেন ? লক্ষ্য করুন এর নাম ‘দ্য ম্যান উইথ এ ক্যামেরা’।

কি আছে ছবিটায়?

ছবিটায় কিন্তু কোন চরিত্র নেই ।ছবিতে সোভিয়েত রাশিয়ার তৎকালীন মস্কো শহরের সাধারণ মানুষের হাসি, গান, বাজারে যাওয়া ইত্যাদি ব্যাপারগুলো ধরা হয়েছে। এখানে ক্যারেক্টার বলতে ফিল্মের পরিচালক ৎজিগা ভেরতভ এবং এলিজাভেথা স্বিলুভা তার স্ত্রী সম্পাদনা করেছেন।এখন মজা হচ্ছে, এখানে সিনেমাটিক টেকনিক অর্থাৎ ক্যামেরার দেখার চোখকে তাঁরা,বিশেষ করে পরিচালক যেভাবে ব্যবহার করেছেন সেটা সত্যিই শিক্ষনীয়। এখন ঘটনা হচ্ছে, এতে করে যা উঠে আসছে সেটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না, গান-বাজনা, দৈনন্দিন চলা ফেরার জগৎ, নোংরামি, অসভ্যতা— ক্যামেরা শুধু দেখে যাচ্ছে।আর তুলে আনা ছবিতে দেখা যাচ্ছে,পৃথিবীতে এমন অনেক বিষয় আছে যা আমাদের বিবমিষার উদ্রেক করে। অণুগল্পকার বিলাল হোসেন তিনি একটা অদ্ভুত কাজ করেন ক্যামেরা হাতে এই পরিচালকের মত ,যিনি সমস্ত কিছু দেখেন। দেখে আসার পর তিনি যে ছবিগুলো আমাদেরকে লিখে দেখান তার আই ক্যামেরা বা ছবি থেকে যে ছবিগুলো বা যে অংশগুলো আমাদেরকে দেখাতে থাকেন, এই দেখানোর ব্যাপারটা নিয়ে একটু ভাববেন, তিনি আমাদেরকে দেখান নিঃশব্দে অর্থাৎ তিনি তার ভাষায় উল্লেখ করেন।নিশব্দে বললাম কেন? এই কারণে বললাম— ভাষা তো নিজে কথা বলে না,মানুষ সেই ভাষাকে উচ্চারণ করলে তবে সে প্রাণ পায়। তাই তিনি নিঃশব্দে আমাদের সামনে তুলে ধরেন ছবি । আমাদের চোখ তাকে অনুবাদ করে— ইংরেজিতে যাকে বলে ট্রান্সলেট করা ।আমাদের মননে সেটা পঠিত হয়। আর তখন আমরা বুঝতে পারি কী ভয়ংকর ছবি, কী ভয়ঙ্কর নোংরামি , কী ভয়ঙ্কর গা গুলানো সমস্ত পরিস্থিতির কথা বিলাল হোসেন তার অণুগল্পে তুলে আনছেন। আবার পাশাপাশি তুলে আনছেন এমন সমস্ত গল্প এমন সমস্ত ছবি যা আমাদের মনকে আলোড়িত করে, আমাদের মনকে দুহাতের পত্রপুটে জাগিয়ে রাখে— বিশ্বাস , বিশ্বাসের আলো। এই যে ঘটনাগুলো ঘটে যায় বিলাল হোসেনের গল্পে তাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করব জানিনা তবে একটা কথা কি জানেন, যদি অন্যায়ের ক্ল্যাসিফিকেশন করা হয় অর্থাৎ কোন কোন অন্যায়টা গুরুতর কোন অন্যায়টা লঘুতর তাহলে আমাদের সামনে একটা মোটা হাজার চারেক পৃষ্ঠার বই হয়ে যাবে। যেমন ডিকশনারি।

বিলাল হোসেন এতসব ঝামেলার মধ্যে যান না।

তিনি আমাদের জন্যে যা করেন চোখে দেখার ছাঁকনি হিসেবে যখন এমন সব অদ্ভুত সমস্যা তুলে আনেন, তখন আমরা বুঝতে পারি— তাইতো এসবের মধ্যেই ত আমরা বসবাস করছি ।এই জিনিসটা খুব কম অণুগল্পকারের মধ্যে আছে। আমার কথা হয়ত ভালো লাগবে না কারও কারও ,মনে অশান্তি হবে,খারাপ লাগবে কিন্তু এটা ঠিক অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা বড় বড় লেখকের উদাহরণ দিই আর নিজে যেটা লিখি সে গল্প ফেনানো কথা। আজকে যদি আপনাকে, ধরে নেয়া যাক, যদি বসিয়ে দেওয়া যায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সামনে—তাহলে দেখবেন তিনি তাঁর ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড, লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা বা অন্য যে কোনো বই সম্পর্কে বলতে বললে তিনি ঘন্টা দুয়েক বলে যেতে পারবেন । তার প্রেক্ষাপট ,তাঁর দেখা , তার সমস্ত কিছু , অর্থাৎ তিনি শূন্য থেকে উপন্যাস লেখেননি।তিনি দেখেছেন একটা জনপদ, তার মানুষ তার সমস্ত কিছু।দেখেছেন, ক্রমশ তার থেকে আহরণ করেছেন নির্যাস। নির্যাসের ভাঁড়ার যখন ভর্তি হয়ে এসেছে তখন তিনি বসেছেন কাগজ কলম নিয়ে যা লিখেছেন তার মননে জারণ করে করেছেন।ফলে সে লেখা আমাদের হৃদয়গ্রাহী হয়েছে অনায়াসে ।

ফলে গল্প লেখা, গল্প নিয়ে আলোচনা করা, গল্প নিয়ে ভাবনা এসব নানা কিছু শুনেছি কিন্তু গল্প নিয়ে ব্যবসা অর্থাৎ মানুষের মনোজগৎ নিয়ে নোংরামির ব্যবসাটা অণুগল্পকার বিলাল হোসেন যেভাবে তুলে আনেন আমাদের সামনে, একজন ভালো লেখকের যন্ত্রণা,একজন সত্যিকারের লেখকের প্রকাশ না-পাওয়ার কষ্ট দিনের পর দিন লেখাকে ভালবেসে ধ্বসে যেতে যেতে যেতে এমন একটা অফার পাওয়া, যে-অফারে তার লেখক আত্মার চূড়ান্ত অসম্মান হবে—এটা জেনেও লেখাকে ভালোবেসেও হেরে যান দৈন্যের কাছে এবং যারা এই দৈন্যের শিকার, যারা লেখককে এই অবস্থায় ফেলতে বাধ্য করেন তারা একজন সিরিয়াল কিলারের চেয়ে কম খুনী নয় । মনন জগতের খুন মানুষকে ক্লীব করে দেয় । হয়তো যে মানুষটা উচ্চারণ করতে পারতো একটা উদাত্ত কবিতা অথবা মননে গদ্যের বেশ কিছু লাইন বেরুত তার হাত দিয়ে তাকে খুন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে ,তাকে জীবন মৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উচিত এবং এই চেষ্টা যারা করছে তারাও কম অপরাধী নয়।

বিলাল হোসেন জানেন—এ সত্য তিনি দেখেছেন আর দেখেছেন বলেই তার গল্পে উঠে আসে সেই গা গুলোনো হত্যা দৃশ্যটি। কেউ হয়ত হালকা করে দেখবেন— কি করবে বেচারি? টাকার অভাব,তাই যা পারছে করছে কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে যায়— আচ্ছা, আমি এই লোকটিকেই ধরলাম কেন খুন করবার জন্য? যে তুমি এই অন্যায়ের কাজগুলো করে যাবে দিনের পর দিন ? রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়া যে কোনো মানুষকে ধরিনি অথচ আমরা জানি—বিলাল হোসেন— আ ম্যান উইথ এ ক্যামেরা— তার চোখের লেন্সে বা মনের মেমোরি কার্ডে এমন অনেক চরিত্র ধরা আছে এবং প্রতিদিন ধরা দিচ্ছে তাই তিনি দেখতে পেলেন যে সেই লোকটা এমন একজন লোককে বেছে নিচ্ছে অন্যায় করার জন্যে যে কিন্তু অন্যদের চাইতে আলাদা।

আলাদাটা কোথায়? না, সে লিখতে পারে। অণুগল্পকার বিলাল হোসেনের সাম্প্রতিকতম গ্রন্থ ১০০ অণুগল্প থেকে একটি গল্প সেটি হচ্ছে অগ্রন্থিত লেখক। কি অসাধারণ ভাবে তুলে আনেন ছবিটাকে তার ক্যামেরায় । ছোট দৈন্য , বড় দৈন্য; দৈন্যরা কেমন দল বেঁধেছে । খেয়াল করেছেন পাঠক ! দৈন্য আর সৈন্য— এই শব্দ দু’টি খুব কাছাকাছি। ছোট সৈন্য বড় সৈন্য; সৈন্যরা কেমন দল বেঁধেছে । কেননা দু’জনকেই অর্থাৎ ছোট দৈন্য বড় দৈন্য; দৈন্যদের দল সবাইকে কিন্তু লড়ে যেতে হয়। যার ভেতরে দৈন্য আছে তাকে সৈন্য হিসেবে যদি দেখা যায় তাহলে বিষয়টি কেমন একে অপরের সাথে পরিপূর্ণ হয়ে যায় কিন্তু মজাটা হচ্ছে যাদের মধ্যে দৈন্য এবং দৈন্যের নানারকম প্রকারভেদ আছে, তারা একসময় সত্যি দল বাঁধে এবং বেঁধে যেটা করে, সেটা হচ্ছে ‘অক্ষমতা দেয়ালজুড়ে নাচে’।

বিপদ আর দুঃসংবাদ হাওয়ায় উড়তে উড়তে কলপাড়ে আসে,ঘর থেকে উঁকিঝুকি দিতে দিতে ঘরের ভেতরে, তারপর ঘাপটি মেরে বসে থাকে, আর বের হয় না। এই যে তীব্র ক্রমশ জমাট হয়ে গেল দৈন্যের পাথরটি আমাদের মনটাকে ভারি করে তার এই দেখার চোখ।

একটি ঘরে তিনটি প্রাণী । নায়লা , নান্টু আর আমি । গ্যাসের চুলা আছে,জ্বলে না । ঘরের ভেতর আমরা জ্বলি । ঘরে হাঁড়িকুঁড়ি আছে , তার ভেতরে খাবার নেই । পেটেও নেই । চোখে শূন্যতা আছে । আবোধ ঘোর আছে । মাথার ভেতরে চাপা রাগ আছে । নায়লা কথা বলে না তার রাগ কথা বলে ।


:তোমার ঘর করতে এসে আজ আমার সব যাওয়ার জোগাড় হয়েছে নায়লা খুব ঠাণ্ডা গলায় বলে ।

ডিফারেন্সটা দেখুন ! রাগ—আমরা জানি আগুনের দ্যোতক। আমরা জানি যে রাগ মানে গরম কিছু।তাপ ছড়ানো কিছু। কিন্তু রাগ যখন পরিস্ফুট হচ্ছে এই গল্পে,তখন খুব ঠাণ্ডা গলায় বলা হচ্ছে। আর এর উত্তরে লেখকের কিচ্ছু বলার নেই। তাই লেখক বলছেন—

আমি কথা বলিনা । এমনিতেই আমি কথা বলি না বেশি । নায়লা রেগে থাকে সব সময় । লেখালেখি করে তাকে কিছুই দিতে পারি নি । সংসার অচল হয়ে গেছে ।

আমি মিনমিন করে বলি সব ঠিক হয়ে যাবে ।

:কিছুই ঠিক হবে না , আমি জানি ।

:একদিন আমরা বড়লোক হয়ে যাব । নান্টুর দুধ থাকবে । ঘরে ফ্রিজ থাকবে । ফ্রিজের ভেতরে অনেক খাবার থাকবে । তোমার অনেক শাড়ি থাকবে ।

নায়লা আমার দিকে পাগলের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে । কিন্তু আমি যা বলেছি সব সত্যি । আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে গেলাম রইসউদ্দিনের কাছে ।

তাকে বললাম আমি আপনার প্রস্তাবে রাজি ।

রইসউদ্দিনের চশমার আড়ালে চোখ দুটি মার্বেলের মত স্থির । উল্টো জানতে চায় প্রস্তাবটা কি ছিল যেন ?

:ধুমায়ুন আহমেদ-এর অগ্রন্থিত লেখা আমাকে লিখতে হবেএই ত !

:ব্যাপারটা এই রকম প্রবল জনপ্রিয় লেখক ধুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যুর পর বিপুল সংখ্যক পান্ডুলিপি পাওয়া গেছে । গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ করা হবে । আর তোমার সেইসব পান্ডুলিপি লিখতে হবে । তবে

:জানি । লেখার ধরণ তার মতই যেন হয় । আর কিছু ?

:চুক্তি সম্পাদনার সময় থেকে তোমার লেখালেখি বন্ধ থাকবে ।পুরো বিষয়টি গোপন থাকবে । তোমার লিখিত অগ্রন্থিত বইয়ের কোন রয়েলটি দাবি করতে পারবে না ।মাসিক ভিত্তিতে টাকা পাবে তুমি , তবে মাসে একটি বই লিখতে হবে । সে হিসেবে মাসে কত চাও তুমি ?

:২৫ হাজার দিলেই হবে ।

:মাসে একটি বই দিতে পারলে ৫০ হাজার দেয়া হবে । আরও দিতে পারলে আরও দেয়া হবে ।

:আমি রাজি । তবে এখন কিছু টাকা দেন ।

গভীর রাতে নান্টুর দুধ , নায়লার জন্যে শাড়ি আর ব্যাগ ভর্তি বাজার নিয়ে যখন ঘরে ঢুকি তখন ছোট দৈন্য বড় দৈন্য ,অক্ষমতা জানালা দিয়ে পালিয়ে গেল ।

এই গল্পটি পড়ার পর আমার কেমন জানি দম বন্ধ হয়ে আসছিল ।এ কোন স্পটে আলো ফেললেন অণুগল্পকার বিলাল হোসেন ! এ কোন অন্ধকার ! যেখানে আমাদের মনের মধ্যে একজন লোভের রইসুদ্দিন বসে থাকে । রইসউদ্দিন নামটাও লক্ষ্য করুন রইসউদ্দিন মানে ধনী মানুষ।সে আমাদের দৈন্যকে ব্যবহার করে যা খুশি করিয়ে নিতে পারে আর সত্যি কথা বলতে কি বিলাল হোসেন যে জায়গাটায় চাবুকটা মারেন,যে জায়গাটায় ক্যামেরাটা আমাদের মুখের উপর ঝলসানো আলো ফেলে,সেটা হচ্ছে— আমরা বোধহয় বিক্রি হতে রাজি আছি ।

এই মাঠ এই পাহাড়জঙ্গল এই সব এই শুনশান রেলওয়ে সব তুমি দিয়ে দিব সব তোমায় দিয়ে দেব অবিনাশ।তবে কত দেবে সেটা বলে নাও, কি বললে?

কত দেবে সেটা তো বলা হবে।

কিন্তু এই বিক্রি করার ফল আমাকে কতটা ভুগতে হবে সেটার কথা বলছো তো! আমি জানি, আমি জানি এই বিক্রিটা করলে এই প্রকৃতি নষ্ট হয়ে যাবে ,এই পুকুর বুজে যাবে ।একদিন এই শুনশান ছবির মতন রেললাইন তলিয়ে যাবে মাটির তলায়। নোংরায় ভর্তি হয়ে যাবে চারপাশ।ময়লা জাগবে চারিদিকে। অবিনাশ আমি জানি, কিন্তু আমার উপায় নেই আমার তো বেচার মতো শুধু এটুকুই আছে!

গল্পটা পড়ার পরে এই থাপ্পড়টা আমি খেয়েছি, বুঝলেন পাঠক । এ জিনিস খবর নিয়ে দেখুন ,সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। সমস্ত জায়গায় আছে,আমরা দেখি তবু দেখি না কিন্তু ‘দ্য ম্যান উইথ আ ক্যামেরা’ অণুগল্পকার বিলাল হোসেন তার মননের লেন্স দিয়ে আমাদেরকে বাধ্য করেন দেখতে— দেখো , দৈন্যের কাছে বিকিয়ে যাবে নাকি নায়লার প্রচন্ড রাগে ঠান্ডা গলায় বলা কথাগুলোর চ্যালেঞ্জ নেবে।আমরা তো আর রবার্ট ব্রুস নই, বার বার মাকড়সার জাল ছিঁড়বে আর আমরা তাকে তুলব। তারপর একদিন সেই মাকড়শাটা সফল হবে ।

উত্তম পুরুষে বলা গল্প হলেও এ তো আমরাই । সে চ্যালেঞ্জটা নিতে পারে না তার কারণ, সে লিখতে পারে আর লিখতে পারে বলেই তার কদর আছে কিন্তু ‘যুদ্ধ বিজ্ঞান’ অর্থাৎ লেখাকে সাজিয়ে তোলার জন্যে যে হোম ওয়ার্ক, যে পড়াশুনা দরকার,সেটা তার নেই। সে সেটা চেষ্টাও করেনি কোনদিন। একদিন হয়তো নাম ছিল, লিখে জায়গা করেছিল, তারপর আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে ভাঁড়ার ফুরিয়ে গেছে। ‘বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে! চমৎকার ! ধরা যাক এবার দুএকটি ইঁদুর এবার’।

হয়না, এভাবে হয় না ।সুযোগের অপেক্ষায় থেকে লেখালেখি করা হয় না। নিজেকে তৈরি করতে হয় বৃহত্তর সংগ্রামের জন্যে । এখানে সেটা যদি আমি না করি তাহলে বসে আছে রইসউদ্দিন—আরে তুমি তো পারো! পারো যখন সার্ভিস দাও, তোমার সার্ভিস আমরা ভোগ করব, তাইতো ইয়োর সার্ভিস ইজ রিকোয়ার্ড । আপনার সার্ভিস দরকার তাই আপনি সার্ভিস দেবেন । পয়সা পাবেন।আমাদের ‘রেট’ এই।সুতরাং দরজা খোলা আছে ,আপনি যদি সার্ভিস দিতে পারেন ইউ আর অলঅয়েজ ওয়েলকাম।

রিকুইজিশন অফ রাইটার্স’,এই করে কিছু লেখক/সম্পাদক ব্যবসা করছেন। আপাতদৃষ্টিতে বিলাল হোসেন হয়ত বলেন— দৈন্য পালিয়ে গেল কিন্তু সত্যি কি গেল? সে তো আসলে কোথাও যায় না, সে কোথায় যায় ? ’কলপাড় থেকে উঁকি দিতে দিতে ঘরের ভেতরে তারপর ঘাপটি মেরে বসে থাকে আর বের হয় না’।গল্পের প্রথমে উচ্চারিত এই লাইনগুলি আবার সত্যি হয়ে শেষকালে ফিরে আসে । এর চাইতে বড় চলচ্চিত্র আর কি হতে পারে ? তফাৎ এই যে,ক্যামেরা এমন ছবি দেখায়,যাকে ছোঁয়া যায়,ধরা যায়, যাকে বোঝা যায় । কিন্তু ম্যান উইথ আ ক্যামেরা বিলাল হোসেনের ক্যামেরাটি আসলে মন –ক্যামেরা, সে এমন সব ছবি তুলে আনে যাকে ছোঁয়া যায় না, ধরা যায় না।অথচ তার দহন তার তাপ বাইরে আপাত ঠান্ডা হলেও ভেতর থেকে জ্বালিয়ে দিতে থাকে একটা মানুষের মেধা ভাবনা-চিন্তা সমস্ত শক্তি ।

এই গল্প কি না-পড়ে থাকা যায়,পাঠক!

 

Spread the love
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন