#Me_Too আর কত দিন চলবে এরকম?

চাকুরী নাই, বেকার জীবন পথে পথে ঘুরছিলাম বেশ দীর্ঘ দিন। এক বড় ভাই জানালো পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রর কর্নধার, শহিদুল ইসলাম বিজু ভাই একজন উদ্যমী নারী খুঁজছেন। তার কাজে সহযোগীতা করার জন্য। বাহ! ভাল তো আমার ও জব দরকার। পরদিন সকালে তার অফিস গেলাম দেখা করার জন্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসলেন। ওনার রুমে নিয়ে গেলেন। পরিচয় কথা শুরু করলেন। আমার জন্য খাবার আনালেন। প্রয়োজনীয় কথা শেষ করে উনি আমাকে গুলশান ব্রাঞ্চ এর দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। সেখানে যাওয়ার জন্য বললেন। গেলাম। আমাকে বললেন ব্রাঞ্চ কো অর্ডিনেট করতে কিভাবে সেল বাড়ানো যায়, কিন্তু সেখানে দায়িত্ব প্রাপ্ত যারা ছিলেন তাদের বলা হলো আমি রবীন্দ্র নাথ নিয়ে গবেষনা করবো, ব্যাপারটা কিছুই বুঝলাম না, আমায় বললেন এক আর এখানে এসে দেখি আর এক। ওনাকে বেতন এর কথা জিজ্ঞেস করলাম। অফিস ডাকলেন। গেলাম।

সেদিন শাড়ি পরেছিলাম, রুমে ঢুকলাম উনি আমাকে বসতে বললেন পাশে সোফায় কিন্তু পাশে চেয়ার খালি ছিলো। আমার প্রশংসা শুরু করলেন। আমার চোখ সুন্দর, দেখতে সুন্দরি, আমাকে ওনার ভীষন ভাল লাগে। এরকম আর ও নানা ধরনের কথা বারতা। উঠে বেরিয়ে যাবো তার উপায় নাই দরজা উনি অটো লক করে দিয়েছেন।

তখন কি করব বুঝতে পারছিলাম না। হাত পা শীতল হয়ে আসছিল। মাথা ঠান্ডা রেখে ওনার সাথে স্বাভাবিক কথা বলার চেষ্টা করছিলাম। বেতন এর কথা জিজ্ঞেস করলাম, উনি বললেন ১০০০০ টাকা আর বাকি ৫০০০ টাকা পারসোনাল ভাবে দিবেন। কথা টা শুনে মাথার মধ্যে আগুন জ্বলে উঠলো। বিজু ভাই এবার আমার পারসোনাল প্রশ্ন করলেন, কেমন ছেলে পছন্দ? বললাম আপনার মত মধ্য বয়স্ক নিশ্চয়ই নয়। সে আমার হাত ধরে ফেলেন। আমার আঁকাবাঁকা আঙুল ১০ টা নাকি ১০ টা পেনিস এর সমান। আমি যেন আর কারো কাছে না যাই। বললাম ভাষা ঠিক করে কথা বলতে, তার নাকি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মত অবস্থা, উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে জোর করে লিপ কিস করলেন। ছেড়ে দিতে বললাম, ছেড়ে দিলেন কিন্তু দরজা খুললেন না। এবার তার জিপার খুলে পেনিস বের করে বললেন ওনার সাইজ আমার পছন্দ হয় কিনা, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে তিনি ঘটিয়ে ফেললেন এসব ঘটনা, এবার আর পারলাম না এতক্ষনে সে সব বাধ ভেঙে ফেলেছেন। বললাম দরজা না খুললে আমি চেঁচাব। আপনি যদি আমায় রেপ করেন তাহলে এমন ভাবে করেন জেনো আমি মরে যাই, আর যদি সেটা না হয় তাহলে আমায় সসম্মানে যেতে দেন।

#Me_Tooঅক্টোবর ২০১৮.চাকুরী নাই,বেকার জীবন পথে পথে ঘুরছিলাম বেশ দীর্ঘ দিন। এক বড় ভাই জানালো পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রর…

Posted by Tashnuva Anan on Friday, November 9, 2018

ইচ্ছা করছিলো লোক টাকে কুত্তার মত পিটাই। কিন্তু যার পরিচয়ে সেখানে গেলাম শুধু মাত্র তার সম্মানের কথা ভেবে চুপ করে হজম করলাম। উনি দেখলাম একটু ভয় পেলেন। তারপর দরজা খুলে দিলেন বের হয়ে আসলাম।

যে সব #সেলিব্রেটি রা ভাবছেন আমি নিজে আলোচনায় থাকার জন্য বা সেলিব্রেটি হবার জন্য লিখেছি তাদের উদ্দেশ্য করে বলছি, শিশির জন্মের পর থেকেই তারকা, আমায় দেখার জন্য আশেপাশের সাত গ্রাম থেকে লোকজন এসেছিলো। এরপর স্কুল কলেজ থিয়েটার নাচের স্কুল, এমন কি আমার প্রেম সবখানেই আমায় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সব সময়, সব খানে সদা বিরাজমান, সুতারাং নতুন করে তারকা হবার কিছু নেই।

এবার #শুশীল সমাজের লোকদের বলছি। উপরে ঘটনা টা এক চুল পরিমান মিথ্যা না। কাছের মানুষ গুলো বলেছেন লেখার জন্য আর লেখাটার প্রয়োজনীয়তা বলি শুনুন,
শুরু থেকে ই আপনাদের সাথে চলার জন্য আপনাদের মেইন স্ট্রিমের মানুষ দের সাথে কাঁধে কাধ মিলিয়ে সমাজ উন্নয়নে কাজ করব বলেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। আমার কোনো ট্রেডিশনাল জীবনের অভিজ্ঞতা নেই। এরকম হাজারো বিজুদের ছোবলে হারিয়ে গেছে অনেক Trans-woman.
বিচার আপনাদের কাছে চাইলে কোনোদিন পাওয়া যাবেনা আপনারা বিচার করতে ও পারবেন না। যে সমাজ একজন তনু হত্যারবিচার করতে পারেনা সেই শুশীল সমাজ কি করে একজন trans-womanএর সম্মান দেবে?
শিশিরের নামের পাশে একটা সাইনবোর্ড ঝুলে আছে, #বেশ্যা, তাই হয়ত কথা গুলো লিখলাম।পুজা অন্বেষারা ভদ্র ঘরের সন্তান ছিলো তাই একজন সুইসাইড করেছে আর একজন ৯ মাস ধরে নিখোঁজ।
সভ্য, সুশীল সমাজের কাছে এক টাই প্রশ্ন- আর কত দিন চলবে এরকম????

নিগ্রহের শিকার তাসনুভা আনান শিশির -এর ফেইসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।

Spread the love
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন