বাংলাদেশের #Metoo মুভমেন্ট নির্যাতনকারীদের হিরো বানাচ্ছে

।।তসলিমা নাসরিন।।

বাংলাদেশের মেয়েরা #মিটু #মিটু করতাছে। যে পুরুষগুলার শয়তানি বদমাইশি তুইলা ধরতাছে , তারা যেমন বহাল তবিয়তে ছিল, তেমন বহাল তবিয়তেই আছে। এখন পর্যন্ত একটারও মাথা হেট হয় নাই, একটাও মাফি মাঙ্গে নাই, একটারও চাকরি গেছে বইলা, একটারেও কোনো কোম্পানি থেইকা, কোনও অরগ থেইকা বহিস্কার করা হইছে বইলা এখন পর্যন্ত শুনি নাই। আমার মনে হয় এইসব #মিটু তাদেরে জিরো বানাইবার বদলে হিরো বানাইতাসে।

মেয়েদের সাথে ফস্টি নস্টি করা, মেয়েদের উড়না টান দিয়া লওয়া, মেয়েদের বুক টিইপ্যা দেওয়া, পেটে কাতুকাতু দেওয়া, পাছায় খামছি মারা, অথবা মেয়েদেরে জোর জবরদস্তি ন্যাংটা করা, বিছনায় ধাক্কা মাইরা শোওয়ানো চিরকালই ওই সমাজে হিরোদের কাজ। হিরোরা পুরুষালি পুরুষ, ওদের শইলে বাঘের শক্তি। মেয়েরা কম শক্তির পুরুষদেরে পছন্দ করে না, যে পুরুষ মেয়েদের কাজ কাম কইরা দেয়, মেয়েরা যা কয় তাই শুনে, মেয়েদেরে ধমকায় না, মারে না, মেয়েদের সাথে নরম স্বরে কথা কয়, লজ্জা পায়, শরম পায়, দুঃখে কষ্টে চোক্ষের পানি ফেলে, তারা নাকি মেয়েলি পুরুষ, তাদের নাকি মেয়েদের পছন্দ না। মাচো’দের ভালা পায়।

#মিটু কাজে লাগার জন্য সমাজের মিনিমাম একটা কোয়ালিটি চাই। বাংলাদেশের সমাজের সেই কোয়ালিটি নাই। মানুষদেরও বেসিক সেন্স নাই, যেই সেন্স বলবে মেয়েরা যৌন বস্তু না, মেয়েদের সাথে যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার পুরুষের নাই। বাংলাদেশের সমাজের বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বাস করে, মেয়েরা যৌন বস্তু, মেয়েদের সাথে সব রকম শয়তানি বদমাইশি করার অধিকার পুরুষদের আছে। মানুষ এও গভীরভাবে বিশ্বাস করে, পুরুষদের যৌনতাটা একটু বেশি, সুতরাং তাদের একটু বেশিই ওইসব দরকার। দরকার বইলা ঘরে বউ রাইখ্যাও তারা বাইরের মেয়েদের সাথে যদি করে, করতেই পারে, কইলাম না ওদের আল্লাহ একটু বেশিই ওই কামনা বাসনাগুলা দিছে, ওদের তো দোষ নাই।

আমার তো মনে হইতাসে ওই পুরুষগুলার সুখ্যাতি বাড়তাছে। আগে তাদের ছোট গণ্ডিতে হিরো ছিল, এখন পুরা দেশেই তারা হিরো। #মিটুর জন্য আমার ভয় হইতাসে মেয়েদেরি আবার শরমে মাথা হেট করতে হয় কিনা।

তসলিমা নাসরিনের ফেইসবুক ওয়াল থেকে নেয়া

Spread the love
  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    34
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন