ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব কি কেনা যায়?

ইউরোপের কোনো দেশের পাসপোর্ট পাওয়া অনেকের কাছেই বেশ লোভনীয় ব্যাপার৷ এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে কোনো দেশে শান্তিতে বসবাস করা যায়, চাকরি বা ব্যবসা করা যায়৷ অনেক দেশে ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করা যায়৷ এই স্বপ্ন অনেকের৷ আর কিছু অর্থের বিনিময়ে অনেকের এই স্বপ্নই বাস্তবে পরিণত হয়। শুধু অর্থই যে মানুষকে সুখী করতে পারে না, একথা সবাই জানে, কিন্তু অর্থ যে ইউরোপের কোনো দেশের নাগরিকত্বও এনে দিতে পারে, তা হয়ত অনেকে জানেন না৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব দেশে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় সেসব দেশের নাগরিকত্ব প্রদানের কর্মসূচি খতিয়ে দেখছে ইউরোপীয় কমিশন। এই কর্মসূচিতে দুর্নীতি, কর ফাঁকি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে তারা এই ঘোষণা দিয়েছে।

Image result for ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব কি কেনা যায়?

 

আসলেই কি তাই? ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব নেয়া কতোটা সহজ?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি সদস্য দেশের যেকোনো একটি দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আপনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হয়ে উঠতে পারেন। নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়ে ই ইউর প্রত্যেকটি দেশেরই আছে আলাদা আলাদা নিয়ম, শর্ত ও আইন কানুন। কোনো কোনো দেশ আছে যেসব দেশের সরকার তাদের দেশে বড় ধরনের অর্থ বিনিয়োগের বিনিময়ে লোকজনকে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। সরকারি বন্ড, স্থাবর সম্পত্তি কিংবা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এটা করা সম্ভব। এর সাথে হয়তো আরো কিছু শর্ত থাকতে পারে- যেমন ওই দেশে বসবাসের আইনি অধিকার।এসব দেশের মধ্যে মাল্টা, সাইপ্রাস ও বুলগেরিয়াতে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেয়া হয়ে থাকে।

মাল্টায় নাগরিকত্ব প্রার্থনা করে কেউ যদি আবেদন করে থাকেন, দেশটির জাতীয় উন্নয়ন তহবিলে তাকে সাড়ে ছয় লাখ ইউরো জমা দিতে হবে। এছাড়াও আরো দেড় লাখ ইউরো দিয়ে কিনতে হবে মাল্টার সরকারি বন্ড কিংবা স্টক। এবং আরো সাড়ে তিন লাখ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থের স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ বাড়িঘর কিংবা জমিজমা কিনতে হবে। অর্থাৎ মাল্টার নাগরিকত্ব কেনা যাবে মোট সাড়ে ১১ লাখ ইউরো খরচ করে।

পাশাপাশি আছে আরো কিছু শর্ত। আপনাকে অন্তত ১২ মাসের জন্যে ওই দেশের বাসিন্দা হতে হবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৩৮৬ জন ব্যক্তি এই কর্মসূচির আওতায় মাল্টার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। মাল্টার সরকার বলছে, এই সময়কালে তারা নাগরিকত্ব কর্মসূচির মাধ্যমে ৪০ কোটি ইউরো সংগ্রহ করতে পেরেছে। এটা মাল্টার মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশের সমান।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশেই এ রকম বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকত্ব গ্রহণের কর্মসূচি নেই। তবে বহু দেশের সরকার তাদের দেশে অর্থ বিনিয়োগের জবাবে বসবাসের সুযোগ দিয়ে থাকে। যেমন ধরা যাক ব্রিটেনের কথা। সেখানে কেউ যদি অন্তত ২০ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করেন তাহলে তাকে ইনভেস্টর ভিসা দেওয়া হয়।কয়েক বছর বসবাস করার পর তিনি এ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার চেয়ে আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাজ্যে ২০১৭ সালে এরকম ৩৫৫ জন বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টর ভিসা দেয়া হয়েছে। সেবছর যুক্তরাজ্য কাজের জন্যে যতো ভিসা দিয়েছিল এই ইনভেস্টর ভিসা ছিল তার শূন্য দশমিক তিন শতাংশ।

সুতরাং যেটা পরিষ্কার সেটা হলো: বড় ধরনের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। তবে এর সাথে হয়তো আরো কিছু শর্ত থাকতে পারে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, খুবই অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ এধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে।

সূত্রঃবিবিসি

Spread the love
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন