ব্যাংকক থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল-২০১৮’ তে অংশগ্রহন শেষে দেশে ফিরলো  ‘ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার

‘ব্যাংকক থিয়েটার ফেষ্টিভ্যাল-২০১৮’ তে অংশগ্রহন শেষ ১৬ই নভেম্বর, শুক্রবার দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করলো থাইল্যান্ডে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী এ দলটি।  দলটির দেশে অবস্থানরত সদস্য সহ শুভাকাংখীরা ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে বিমান বন্দরে হাজির হয়েছিলেন।

১লা নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ১৮ দিনব্যাপী সেই আয়োজনে তাদের নির্ধারিত মূকাভিনয় প্রযোজনা ‘দ্যা ব্লাইন্ড পার্সপেক্টিভ’ গত  ১০ ও ১১ই নভেম্বর, ২০১৮ খ্রি. পরপর দুইদিনে দুটি করে মোট চারটি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার। এছাড়াও ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর সদস্যদের সাথে ব্যাংককের স্থানীয় দুটি নাট্যদলের সাথে মতবিনিময় সভা ও উৎসব আয়োজনকারী কতৃক বিশেষ আলোচনায় যোগদান করেন।

‘বিনোদনে নান্দনিকতা’ স্লোগানে প্রতিষ্ঠিত ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক তানভীর শেখ জানান, উল্লেখ্য উৎসবের নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে আবেদন পরবর্তীতে প্রযোজনাটির ভিডিও এবং বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে বিভিন্ন দেশের প্রায় শতাধিক প্রযোজনার সাথে  প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র দল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলো ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার। আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার সহ কানাডা, ইটালি, জাপান, নেপাল, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, উরুগুয়ে, পোল্যান্ড,  থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশ অংশগ্রহন করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, মানবসৃষ্ট অথবা প্রাকৃতিক ভাবে ঘটে যাওয়া অনেক বিপদজনক ব্যাপারই আমাদের চোখে ধরা পরে, যা প্রায় নিশ্চিতই জনসাধারণের দুর্ঘটনার কবলে পতিত হওয়ার আশঙ্খা থাকে। তদুপরি শক্তি বা ক্ষমতা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র ইচ্ছার অভাবে প্রায় সবাই সেটা এড়িয়ে চলে। প্রক্ষান্তরে কিছু মানুষের অন্য সবার মত শক্তি বা ক্ষমতা না থাকলেও শুধুমাত্র ইচ্ছা শক্তি পুঁজি করে সমাজকে আলোকিত করে চলেছেন। এই প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ‘ব্যাংকক থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল-২০১৮’ তে মূকাভিনয় প্রযোজনা ‘দ্যা ব্লাইন্ড পার্স্পেক্টিভ’-এর সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। প্রযোজনাটি নির্দেশনা দিয়েছেন তানভীর শেখ এবং প্রযোজনা ব্যবস্থাপনার দ্বায়িত্ব পালন করছেন রেজাউল মাওলা নাবলু। থাইল্যান্ডের স্বনামখ্যাত থিয়েটার কোম্পানী ‘ব্যাংকক থিয়েটার নেটওয়ার্ক’ এর ধারাবাহিক আয়োজন ‘ব্যাংকক থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল-২০১৮’ র  এ আসরে   ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর প্রথম প্রযোজনা, নকশা মূকাভিনয় “দ্যা ব্লাইন্ড পার্সপেক্টিভ”  প্রদর্শনীতে অংশগ্রহনকারী সদস্যরা হলেন-হুমায়ুন কবির সুইট, নূরে আলম, আরিফুল ইসলাম, শাকিল আহমেদ,  রুবেল তালুকদার, আনন্দ প্রামানিক ও তানভীর শেখ।

বাঙলার সু-প্রাচীন নাট্য-ঐতিহ্যর গর্বিত উত্তরসূরি আমরা। কালগত অভিঘাতে বাঙলা অঞ্চলের নাট্য-ধারাবাহিকতা ইতঃপূর্বে কিঞ্চিদধিক ব্যাহত হলেও আধুনিককালের নাট্য-সচেতনতা আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যর প্রতি করেছে শ্রদ্ধাশীল। সঙ্গত কারনে, আমাদের নাট্য চর্চার সমকালীন যে বিষয়গুলো অন্ধকারে রয়ে গেছে বা দর্শক-সম্মুখে সচারাচর উপস্থাপিত হয়না। সে সকল বিষয়বস্তু নান্দনিক বিনোদনের মাধ্যমে দর্শক সম্মুখে উপস্থাপনই আমাদের প্রত্যয়। আমরা নিশ্চিতই বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত বহ্নিশিখার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অ-ব্যাক্ত কালো অধ্যায় আধুনিক বাঙলা নাট্যরীতি ও দেশীয় মূকাভিনয় রীতির ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে রুচিশীল দর্শক-সম্মুখে নান্দনিক প্রকাশ ঘটবে। বর্ণিত প্রক্রিয়ায় আমাদের নিজস্ব নাট্য ও মূকাভিনয় আঙ্গিকের প্রয়োগে উপস্থাপিত হবে সমকালীন সে বিষয়গুলো যা অন্ধকারেই রয়ে গেছে। এতদ্ উদ্দেশ্যেই ‘বিনোদনে নান্দনিকতা’ স্লোগানে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত নাট্যসংগঠন ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার ইতোমধ্যে ৫টি মূকাভিনয় প্রযোজনা মঞ্চে এনেছে এবং সেগুলো ঢাকা সহ সারাদেশে নিয়মিত মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে, এছাড়াও বেশ কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসবে সাফল্যের সাথে অংশগ্রহন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

প্রসঙ্গত,  ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর এ নাট্য-সফরে টাইটেল স্পন্সর হিসাবে বাংলাদেশ আমেরিকান কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এন্ড ইয়ুথ সার্ভিসেস (BACDYS) এবং কো-স্পন্সর হিসেবে ‘দেশী টেলিগ্রাফ’ (ইউএসএ), ‘দেশী সিনিয়র সেন্টার’ (ইউএসএ), মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ‘বাংলা টিভি’, ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে  ‘ফাষ্টমুভ গ্লোবাল কনসাল্টেন্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্যাক্টরী’, প্রিন্টিং পার্টনার হিসাবে ‘রীপ্যাক প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং’ এছাড়াও ‘বাংলাদেশ মাইম এসোসিয়েশন’ ও ‘জাপান বাংলা পিস ফাউন্ডেশন’,বরাবরের মতোই বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছে।

Spread the love
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন