ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে এসেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। এমন ঘটনা নতুন নয় দক্ষিণ এশিয়ায়। এর আগেও ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের রাজনীতির ময়দানে দেখা গেছে। তেমন কয়েকজনকে দেখে নিই চলুন।

Image result for ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ

ইমরান খান

ক্রিকেটারদের মধ্যে রাজনীতিতে সবচেয়ে সফল ইমরান খান। ১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতা পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ইমরান খান। ১৯৯৬ সালে যোগ দেন রাজনীতিতে। গঠন করেন রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

 

অর্জুনা রানাতুঙ্কা

শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। অবসর গ্রহণের পর তিনি লঙ্কান বোর্ডের নানা দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে রাজনীতিতে আসেন শ্রীলঙ্কান ফ্রিডম পার্টিতে যোগ দেয়ার মাধ্যমে। সে বছর কলম্বো থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। পরে শিল্প, পর্যটন ও বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এখন তিনি বন্দর ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী।

 

সনাৎ জয়াসুরিয়া

সনাৎ জয়াসুরিয়া সর্বকালের সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারদের একজন। মাশরাফির আগে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। ২০১০ সালে তিনি মাতারা’র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। মাহিন্দা রাজাপাকশে’র মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

 

কীর্তি আজাদ

কীর্তি ভগবত ঝা আজাদ ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলেও ছিলেন বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভগমত ঝা আজাদের পুত্র কীর্তি। তৃতীয়বারের মতো তিনি এখন লোকসভার নির্বাচিত সদস্য।

 

নভজোত সিং সিধু

সিধু’র ১৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। ২০০৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির হয়ে অমৃতসর থেকে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন। জিতেও যান। ২০১৬ সালে তিনি দল থেকে রাজ্যসভার জন্য মনোনীত হলেও বিজেপি ত্যাগ করেন। ২০১৭ সালে যোগ দেন কংগ্রেসে। পূর্ব অমৃতসর থেকে নির্বাচনও জেতেন।

 

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন

ভারতের এই সাবেক অধিনায়কের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু ১৯৮৪ সালে। ২০০৯ সালে তিনি ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নানা কারণে ভারতের আলোচিত ক্রিকেটারদের একজন তিনি।

 

বিনোদ কাম্বলি

শচীন টেন্ডুলকারের স্কুলের বন্ধু বিনোদ কাম্বলি। নিজে ভারত দলে খেলতেন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে। বলিউডে অভিনয়ও করেছেন। পরে লোক ভারতী পার্টিতে যোগ দেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে মুম্বাইয়ের ভিখরোলি থেকে অংশ নিয়ে হেরে যান।

 

মনসুর আলী খান পতৌদি

পতৌদিকে বলা হয় ভারতের সেরা অধিনায়কদের একজন। তার সময়ে মাঠের সেরা ফিল্ডারও ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে ভোপাল থেকে কংগ্রেসের হয়ে জাতীয় নির্বাচনেও লড়েন তিনি। তবে হেরে যান।

 

নাঈমুর রহমান দুর্জয়

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

মাশরাফি বিন মর্তুজা

জয়সুরিয়ার পর মাশরাফিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি খেলা অবস্থাতেই প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে ২০১৮ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নড়াইল-২ আসন থেকে লড়বেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক।

Spread the love
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন