একগুচ্ছ কবিতা || মুহম্মদ ইমদাদ

কবিতা বিক্রির টাকা নিয়ে কবিতা

আমি আপনাকে একটা প্রেমের কবিতা লিখে দেব
বিনিময়ে আপনি আমাকে দুইশো টাকা দিবেন।
অগ্রিম একশো টাকা। মেয়েটি কবিতা পড়ে যদি
আপনাকে বিয়ে করতে রাজি হয়
তাইলে বাকি একশো টাকা। রাজি না হইলে
মূল্য ফেরৎ।-
আপনার বিয়ে হলো। আপনি বিদেশে চলে গেলেন।
বিদেশের সিটিজেন হলেন। কবিত্বসহ আমাকে ভুলে গেলেন।
কারণ আপনার কবিতার আর দরকার নাই। কাজ শেষ।
ফোন করলে ফোন ধরেন না। আপনি কবিদের অপছন্দ করেন।
দুই চোখে দেখতে পারেন না।
তাছাড়া আপনার ব্যস্ততা অপরিসীম।
ইলেকশন করবেন।
আপনার ব্যস্ততার ফাঁক দিয়ে আমার একশো টাকা হারিয়ে ফেলেছেন
দিতে পারছেন না।
ফলে আমি আপনারে অভিশাপ দিলাম।
সাথে সাথে আপনার স্ত্রী বুঝে ফেললো
কবিতাটি আপনার লেখা ছিলো না। অন্য কারো।
ফলে ডিভোর্স হয়ে গেলো্।
আপনি ইনবক্স করেছেন। একশো ডলার পাঠাবেন।
আরো একটি প্রেমের কবিতা।

কিন্তু আমি প্রেমের কবিতা থেকে অবসর নিয়েছি
অনেকদিন হলো। এখন আমি মৃত্যুর কবিতার কবি
আপনি যদি মরতে চান, কবিতা দিতে পারি।
টাকা লাগবে না। আমার টাকা আছে।
কবিতাটি পড়ামাত্র আপনার মৃত্যু।
আপনি চলে যাবেন সব কিছুর উর্ধ্বে
আরামে থাকবেন। বউ হারানোর কষ্ট আপনাকে
রাত জাগিয়ে রাখবে না। আপনি ঘুমাবেন।

 

অধ্যাপক ১৪২ প্রকার। ১৪১ প্রকার অধ্যাপক দেখে তার হাসি পায়

ওহে অধ্যাপক, একটা পাখির ২টা পালক ঝরে গেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাথায়, তাদের পৌঁছে দিতে পারবা ফের পাখির ডানায়?
.
ভাষা চিনো? জলপাই পড়াইতে পারো? মেঘের অক্ষর? কবরের উপর জোনাকি, তাদের স্বপ্ন? পাতাবাহার কাকে বলে? কাকে বলে যমুনা? সংক্ষেপে বলো তো শুনি, দুধ ও ভাতের ডেফিনেশন।

বিষ পড়াতে পড়াতে বিষধর হয়ে গেছো হে। ফুলরে বানাচ্ছো সাপ। হে গবেষক, মৌমাছির দিকে তাকিয়ে দেখো কে বেশি শিক্ষক!

 

 

অন্ধ মানুষ এসে সামনে দাঁড়ালে আয়নাও অন্ধ হয়ে যায়। কেউ কাউকে দেখতে পায় না।

এই সত্য আমরা আবিষ্কার করি আলাউদ্দি ভাইয়ের মৃত্যুদিনে! লাশ নিয়ে কবরে যাওয়ার আগে আলাউদ্দি ভাই বললেন, ‘আমারে আরো একটু রাখো রে…।’ আমরা তারে কাঁধ থেকে নামিয়ে উঠানেই রাখলাম। মুখ খুলে দিলাম। বাড়ির সব গাছ, পিঁপড়া, হাঁস-মুরগি-পায়রা সবাই তারে এক নজর দেখতে এলো। আলাউদ্দি ভাই বললেন, ‘ইমদাদ, কিছু দেখা যাচ্ছে না রে, এত অন্ধকার।’

 

 

বুকের ওপর লিপস্টিকের গাছ

আমি সভ্য মানুষ।
আগে অসভ্য ছিলাম
অসভ্য থাকার সময় লিপস্টিক
সাবান শ্যাম্পু ইত্যাদি লাগতো না
এখন লাগে
সভ্য মানুষের সভ্যতা লাগে
ঘড়ি/সোফা/ফ্রিজ/তালা/টিভি/টুথব্রাশ
এবংআরো ৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৯২টা জিনিস
ভাবছিলাম এগুলো গাছে ধরে
গাছ লাগানোর জন্য জমি পাই নাই
সব বিক্রি হয়ে গেছে
(কার জমি কে বিক্রি করলো কে জানে)
দেখি জিনিসগুলো দোকানে আছে
কিনতে টাকা লাগে
আমার টাকা নাই
ফলে আমি মলম পার্টিতে যোগ দিই
একদিন ধরা পড়ি
এখন অবস্থা এমন যে উঠে দাঁড়াতে পারি না
কিন্তু জিনিসগুলো আমার চাই-ই
ভাবছি আমার সাড়ে তিন হাত শরীরই আমার জমি
বুকের ওপর একটা লিপস্টিকের গাছ
পেটের ওপর একটা ফ্রিজের গাছ
মুখের ভিতর একটা টিভির গাছ
হাঁটুতে দুইটা সোফর গাছ লাগাবো…
শরীরের যা অবস্থা
গাছগুলো বাঁচবে কি না, ভাবছি।
ভাবছি, ফল ধরবে কি না

 

 

শরীর

পৃথিবীতে কোথাও আর পৃথিবী নাই।
যেদিকে তাকাই খালি দেশ আর দেশ
নিউইয়র্ক আর প্যারিস আর রোম আর ঢাকা
অর্থাৎ পৃথিবীতে আর এক তোলাও পৃথিবী নাই।
ভাবি, আমার শরীরই শেষ একটু পৃথিবী
তাই এই শরীরেই বসে থাকি
নিজের হাত দেখি, আঙুল দেখি, নখ দেখি
চোখ দেখি, আর ভাবি, এও এক মহাসাগর
কপালকে মনে হয় কোনো মহাদেশ
চুল দেখি. আর ভাবি, এও এক বনভূমি
হয়তো আমাজান
নিজের শরীরে বসেও আমার রক্ষা নাই
টেলিভিশনে দেখে ফেলি সেনানিবাসের ছবি
যুদ্ধের মহড়ার ছবি
জাতিসংঘ-ভবন
পেন্টাগন
পোখরান
কসভো-কাশ্মীর-সিরিয়া-ফিলিস্তিন
আর আমার শরীর, মানে আমার পৃথিবী অসুস্থ হয়ে পড়ে
আমি টেলিভিশন বন্ধ করতে বলি
হেঁটে চলি বাউলের সমাধির প্রতি
মৃত সব গান অনুভব করি
নিজেরে একটা গানের অন্তরা ভেবে গেয়ে চলি
গেয়ে চলি কবরের প্রতি, শান্তির প্রতি

 

 

মৃত্যু পর তা-ই হবে, জন্মের আগে যা ছিলে

তুমি জানতে না তুমি কে। এখনো জানো না।
কিন্তু তুমি মনে করেছ তোমার পরিচয় তুমি জানো।
এবং এই মিথ্যা জানাকে তুমি জ্ঞান মনে করেছ।
নিজেরে জ্ঞানী মনে করেছ।
এবং, এর ফলে, প্রথমে তুমি ঘৃণা করতে শিখেছ তোমার ভাইকে
এবং একসময় নিজেরে মনে করেছ স্বয়ম্ভূ
মানে, ভাবতে শুরু করেছ যে তুমিই সৃষ্টি করেছ তোমাকে
অথচ একটা ভাত
মাত্র একটা ভাত
সৃষ্টি করতে পারে না, পারবে না
পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জ্ঞান
তুমি জানো না।
ভাত কেন, এক মুঠো মাটি সৃষ্টির জ্ঞান তোমার নাই
জুতা বানিয়ে পায়ে পরার জ্ঞান দিয়ে তুমি বুঝতে চেষ্টা করেছ
ইউনিভার্স
অথচ বিস্ময়াভিভূত হয়ে তোমার ঘাসফুল দেখার কথা ছিলো
কথা ছিলো, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেরে দেখা
দেখতে দেখতে ভাবার কথা ছিলো
এই দেহ আমার না
কার যেন? কার?
কিন্তু না,
অমর আকাশের নিচে গোরস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে
তুমি বরং
কন্ট্রাসেপটিভ আবিষ্কারের বুদ্ধি নিয়ে অহংকার করেছিলে
এবং এই অহংকারের পাপে অন্ধ হয়েগিয়েছিলে
কিন্তু
নিজের জন্য আরেকটি চোখ তুমি সৃষ্টি করতে পারোনি
অন্ধ অবস্থায় তুমি রাজা হতে চেয়েছিলে
অন্ধ রাজার গল্প মানুষকে জানাতে চেয়েছিলে
তবু তুমি মরতে চাওনি। কে চায়?
অথচ তুমি মারতে চাইতে। মানুষ মারা ছিলো তোমার প্রিয় শখ।
.
এখন তুমি কোথায় হে বদমায়েশ
এইসব করার জন্য তোমাকে সৃষ্টি করা হয়নি
রে হারামি

 

 

পৃথিবী

১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে আমি একবার পৃথিবীতে যাই
থাকি প্রায় ৬২ বছর।
তারপর ফিরে আসি যাওয়ার আগের অবস্থায়।
একজন মহিলার পেটে চড়ে আমি সেখানে যাই।
সময় লাগে প্রায় ১০ মাস ১০ দিন।
পৃথিবীতে পৌঁছে আমি এতটাই বেক্কল হয়ে যাই যে
আমার কোনো কাণ্ডজ্ঞান থাকে না প্রায় ৪ বছর।
ততদিন এই মহিলা আর তার প্রেমিক
আমি অাগুনে হাত দিতে চাইলে
মাটি খেতে চাইলে
পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিতে চাইলে
মানা করেন এবং কোলে তুলে নেন
এবং আমাকে তারা কমলালেবুর রস না খেতে চাইলে
গরুর দুধ না খেতে চাইলে
আদর করে হাতে-পায়ে ধরে খাওয়ান
আমার কাণ্ডজ্ঞান হতে থাকে
পৃথিবীতে বসবাসের নিয়ম-রীতি রপ্ত করতে থাকি
অাগুনের ধর্ম আর পানির ধর্ম জেনে যাই
বুঝে ফেলে আমি মানুষ পৃথিবীতে এসেছি
এখানে বেড়ানো যায় না,কাজ
এখানে থাকতে হলে ভাত খেতে হয়
ভাত রোজগার করতে হয়
রোজগারের ধান্ধা করতে হয়
মিথ্যা বলতে হয়
জ্ঞান অর্জন করতে হয়
ডাকাতি করতে হয়
অন্যের ভাত কেড়ে আনতে হয়
এখানে কাঁচা থাকলে চলে না, পাকা
নগ্ন থাকলে চলে না, জামা
খালি পায়ে চলে না, জুতা
খালি হাতে চলে না, ছুরি, চাকু
এখানে অহংকার লাগে, হুংকার গর্জন লাগে
আমি ভাবলাম, আমার এসবের দরকার নাই
পাখির স্বভাবে কদিন বেড়িয়ে যাই
লোকে বলে চলবে না। তোমার বহু কাজ।
কাজ করলে টাকা। টাকায় ভাত। জামা। ছুরি।
অামার টাকা নাই। সবাই আমার ভালো চায়।
আমাকে তারা একটা উড়োজাহাজের পেটে ঢুকিয়ে দেয়
উড়োজাহাজের পেট থেকে অামি আমেরিকা নামক
অন্য একটা পৃথিবীতে পৌঁছে তাজ্জব হই।
অস্ত্র কারখানায় আমার কাজ হয়। টাকা হয়। ভাত হয়।
এবং এই অস্ত্র আমাকে একদিন বের করে দেয় পৃথিবী থেকে।
পৃথিবীর কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে।
মাঝেমাঝে মনে হয় আবার যাই।
যাওয়া কি ঠিক?

 

 

‘উথলে নয়নবারি’

দুপুরে খেতে বসে বাচ্চার দিকে তাকিয়ে
বউয়ের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ তার মনে হলো : আমি তো মারা গেছি সাত বছর আগে!
হঠাৎ তার মনে হলো : কবরে স্বপ্ন দেখা যায় নাকি;
মরা মানুষের সাত বছর আগের স্মৃতি থাকে নাকি!
সে বউয়ের দিকে নজর করে তাকায়
সে বাচ্চার দিকে নজর করে তাকায়
নিজের বিধবা বউ দেখতে কেমন
নিজের এতিম বাচ্চা দেখতে কেমন
স্বপ্নের খাবার টেবিলে তার চোখ ভিজে যায়
খাওয়া শেষ করে সে পানি খায়
মনে হয় বাস্তব; মনে হয় সত্যি; মনে হয় পিপাসা মিটতেছে
সাত বছর আগে সে এইভাবে পানি খেত;
এইভাবে বউ আর বাচ্চারে দেখত; এইভাবে…
স্বপ্ন এত স্পষ্ট হতে পারে তার ধারণাতেই ছিলো না
সে দেখে চুম্বনের অভাবে তার বাচ্চার মুখ এতিমকালার
চুম্বনের অভাবে তার বউয়ের কপাল বিধবারঙিন
চোখ ভিজে
শোবার ঘরের দিকে যায়
সবকিছুতে তার না-থাকার গাঢ় ছাপ
বলে, আমার না-থাকার মাঝে কেমনে থাকো তোমরা
বউ বলে পাগল হইছ? অফিসে যাও।
সাত বছর আগে এইভাবে বলতো
মৃত্যুচিন্তা হতো বলে
হাসতো।
অফিসে যাওয়ার মতো সে হাঁটে
চোখ ভিজে

কবরে স্বপ্ন দেখা যায় না কি
মরা মানুষ কাঁদতে পারে না কি

 

 

অপেক্ষা আমাদের আদিম অভ্যাস

জীবনের কখনো শত শত পাপড়ি ছিলো না।
যেহেতু জীবন কখনো ফুলের মতো ছিলো না।
জীবন ছিলো পাহাড়ের মতো। পাথরের পাহাড়।
আমরা ভাবতাম পাহড়ের ভিতর লুকিয়ে আছে সোনা ও সুখ।
আর পাথর খুঁড়তাম। পাথর ভাঙতাম।
ভাঙতে ভাঙতে ঘুম চলে আসতো। ঘুমিয়ে পড়ার আগে ভাত খেতাম।
ভাত খেতে খেতে বউ বলতো, সুখ কতদূর?
স্বামী বলতো, রাত পোহালেই।
রাত ঠিকই পোহাতো কিন্তু সুখ পোহাতো না।
সুখ ঘুমিয়ে থাকতো অসীম রাত্রি ও পাথরের পেটে।
ফলে আমাদের পাথর ভাঙার কোনো শেষ ছিলো না।
যেহেতু পাথরের কোনো শেষ ছিলো না।
কারণ জীবন মূলত একটি অনন্ত পাথর।
তবু আমরা পাথর ভাঙতাম। রাতে খেতে খেতে
রাত পোহানোর অপেক্ষা করতাম। সুখের অপেক্ষা করতাম।
কারণ অপেক্ষা আমাদের আদিম অভ্যাস।
আমরা পথ চেয়ে থাকতাম।
পথ চেয়ে থাকতে থাকতে আমরা মরে যেতাম।
তবু আমাদের অপেক্ষা শেষ হতো না।
আমরা কবরে শুয়ে শুয়ে অপেক্ষা করতাম
পাথরের শেষ বুঝি হলো। সুখ বুঝি এলো।
আমাদের সন্তানেরা সুখ ও সোনার দেখা পাবে : এই স্বপ্নে
আমরা কবরকেও বিভোর করে রাখতাম।
অপেক্ষায় বিভোর থাকতে থাকতে কবরের কাঠামো ভেঙে পড়তো
কবরে বৃষ্টি পড়তো। শেয়াল বাচ্চা করতো। সাপ বাচ্চা করতো।
একদিন স্বপ্ন শেষ হতো। অর্থাৎ আমরা স্বপ্ন দেখা ভুলে যেতাম।
সন্তানকে ভুলে যেতাম।
একদিন, এমনকী পৃথিবী পরিষ্কার হয়ে যেতো। কোনো মানুষ
থাকতো না। এবং পাথর অর্থাৎ জীবন অটল পাথরই থাকতো।
পাথরের পেটে সুখ থাকতো। আমরা তার দেখা পেতাম না।
ফলে আমরা জীবনকে ভালোবাসতাম না।
আমরা ভালোবাসতাম আমাদের দুঃখকে।
আমাদের দুঃখের স্বরূপ অবিকল মায়ের মতো।
ছেলের মতো। মেয়ের মতো। প্রেমের মতো। মৃত্যুর মতো।
আমরা আমাদের মৃত্যুকে ভালোবসতাম। কেননা
মৃত্যুই আমাদের মিথ্যা অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে
শান্তি দিতো। নরম ও কোমল আর নির্জন আর করুণ শান্তি।

 

 

অন্ধ মানুষের জন্য কবিতা

অন্ধের জানার কথা না মানুষ দেখতে কেমন।
একবার জন্মান্ধের অভিনয় করতে গিয়ে দেখি:
গন্ধরাজের ঘ্রাণকে তারা ভাবে নারী আর নারীর গন্ধকে ফুল।
আলো বলতে তারা কিছু বোঝে না।

অন্ধের নিকট অন্ধকার স্বচ্ছ একটা স্মৃতি।


অন্ধ সবাইকে বন্ধু মনে করে, সে শত্রু চেনে না।

 

 

দেশটা পৃথিবীর বাইরে কোথাও থাকবে

পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় ঐদেশে অপরাধ কম। কিন্তু শাস্তি অতি অভিনব। যেমন একটা কুকুর ঘুমিয়ে পড়লো ঘাসের ওপর। ঘাসের কষ্ট হলো। একটা লোক অন্য একজনের দিকে মুখ করে থুথু ফেললো। শাস্তি অনিবার্য। কী শাস্তি? কুকুরের প্রাণ এনে ঢুকিয়ে দেয়া হবে ঐ থুথু ফেলা লোকের ভেতর। আর তার প্রাণ কুকুরের ভেতর। মানুষের প্রাণ নিয়ে কুকুর পড়বে ঝামেলায়। তার জামা চাই। জুতা চাই। চাকরি চাই। কিন্তু কুকুরকে এইসব দেবে কে? এদিকে কুকুরের প্রাণ নিয়ে মানুষ ঝামেলায়। তার জামা বা জুতা বা চাকরির দরকার নাই। শরীর মানুষের কিন্তু প্রাণে তো কুকুর। ফলে ঐদেশে কুকুরও খুব কেয়ারফুল। পৃথিবীর মানুষের থেকেও জ্ঞানী। ভাবছি যাব ওখানে।

 

 

প্যারাডাইজ লস্ট

ছোটো ভাইয়ের জন্মের পর
মায়ের আঙুল ছেড়ে
পৃথিবীর আঙুল ধরতে গিয়ে দেখি
আরো অসংখ্য হাত
এবং তখনই প্রথম জেনেছি যে,
একা নয়, ভাগ করে খেতে হবে
ডালিম, মাতৃস্তন এবং ভাত!

Spread the love
  • 198
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    198
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন